শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হতে পারে বর্ষাকালের রোগ

এক করোনা ভাইরাসেই দিশেহারা বাংলাদেশ। এই ভাইরাসে প্রতিহত করতে রীতিমতো টালমাটাল অবস্থা গোটা দেশ। এরই মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হতে পারে বর্ষাকালের নানা রোগ-ব্যাধি।

ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে হানা দিয়েছে বন্যা। বন্যা ডায়রিয়া-কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে বাংলাদেশে।

আর বর্ষাকালে প্রতি দিনই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হয়। এসব বৃষ্টির ফলে জমা পানি, ঠান্ডা লাগা, জ্বরের মতো সমস্যাও বাড়ে ব্যাপক। এসব কারণে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।

বন্যা ও বষায় সবচেয়ে বেশি যে রোগ দেখা যায় তা হল- ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, ভাইরাল ফিভার, কলেরা, জন্ডিসসহ নানা রোগ। প্রতি বছরই এসব রোগে আমাদের দেশে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশের চিকিৎসা সেবায় সে অবস্থা তাতে বর্ষাকালের রোগ নিয়ে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তারা বলছেন, বড় বিপদ হল, বন্যার সময় রোগীর পরিচর্যা, চিকিৎসা সবকিছুই হয় দুষ্কর। পানিবন্দী হওয়ার কারণে ডাক্তারের কাছে যাওয়া সুযোগ কম থাকে। ওষুধ কেনার সমস্যা। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজার রাখাও সম্ভব হয় না। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির সমস্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। পান করার পানি, রান্না-গোসলের পানি না থাকায় রোগের তীব্রতা আরও বাড়ে।

তারা আরও বলেছে, শিশুদের নিয়ে সমস্যাটা আরও বেশি। সুযোগ পেলেই এরা নোংরা পানিতে নেমে পড়ে। ফলে চুলকানি, খোসপাঁচড়া, ঘা ইত্যাদি দেখা দেয়। বেশিক্ষণ পানিতে থাকার কারণে ঠাণ্ডা-জ্বর লেগেই থাকে। অনেকসময় তা নিউমোনিয়া পর্যন্ত গড়ায়।

এছাড়াও করোনার লড়াইয়ে টিকে থাকতে গিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং নেপালের মতো দেশে ডিপথেরিয়া এবং হামের মতো রোগ হাজির হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এই সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলো কভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতে গিয়ে অবচেতনভাবে অন্যে রোগে মৃত্যু বাড়াচ্ছে।

এর মধ্যে আবার চিকিৎস বিজ্ঞানীদের ভাবনায় আছে বর্ষাকালে করোনা ভাইরাসের আচরণ কেমন হবে। গ্রীষ্মের সময়ে ভাইরাসের ক্ষমতা কমে যাবে এবং সংক্রমণ কমবে। তা ঘটেনি। এবার বর্ষা শুরু হয়েছে, ভাইরাসের উপর এবং সংক্রমণের উপর বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

যেহেতু এটি একটি নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন বৃষ্টির প্রভাব ভাইরাসের উপর কী হবে। ফলে এ ধরনের ভাইরাস বর্ষাকালে কী ধরনের আচরণ করে সেটাই দেখার পালা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *