শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

মিজোরামের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত পরিদর্শন করিমগঞ্জের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের

পাথারকান্দি (অসম): করিমগঞ্জ জেলার রাতাবাড়ি এবং পাথারকান্দি বিধানসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় জবরদখল করে নির্মাণকার্য করেছিল কতিপয় মিজো। তাদের উচ্ছেদ করেছিল দক্ষিণ অসমের করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এর পর ফের মিজোরা সেখানে নির্মাণ করে ঘর। আবারও তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে পাথারকান্দির মেদলিছড়ায় মিজোরামগামী রাস্তায় বাঁশ ও গছের লগ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। আজ সেই স্থানে ফের গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন করিমগঞ্জের জেলাশাসক আনবামুথান এম‌পি, নবাগত পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার সহ অন্য সরকারি আধিকারিকরা।

সম্প্রতি করিমগঞ্জের জেলাশাসক আনবামুথান এম‌পি, ডিআইজি বিনোদ কুমার (দ‌ক্ষিণ অসম), করিমগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার, করিমগঞ্জের অতিরিক্ত জেলাশাসক, বর্ডার এসএসপি, সিসিএফ, ডিএফও, এসিএফ, চেরাগি রেঞ্জ অফিসার সহ পদস্থ আধিকারিকরা মিজোরামের মামিত জেলার ডি‌সি, এস‌পি, ডিএফও, ডিআইজি, গৃহ বিভাগের ওএসডি ও মিজোরামের পদস্থ আধিকারিকরা প্রতিবেশী দুই রা‌জ্যের সীমান্ত বিবাদ নি‌য়ে আলোচনার টে‌বি‌লে বসেওছিলেন। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়‌নি। এবার দিশপুরের পরামর্শে মিজোরামকে উচিত শিক্ষা দিতে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিছিন্ন করেছে।

জানা গেছে, সমস্ত ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করতে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন পাথারকান্দির অসম-মিজোরাম সীমান্তে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তার ওপর বসিয়ে দিয়েছে ব্যারিকেড। শুক্রবার দুপুরে আচমকা সীমান্তে উপস্থিত হন জেলাশাসক এম আম্বামাথুন এমপি, পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার সহ বন বিভাগের আধিকারিকরা। সেখানে গেটের পাশেই অস্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ পিকেট। তাদের সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিতে এসেছেন স্থানীয় উপজাতি রিয়াং জনগোষ্ঠীর মানুষ।

এদিকে মিজোরামের মামিত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে অসমের পাথারকান্দি অঞ্চলের মেদলিছড়ায় প্রায় দু কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অনধিকার প্রবেশ করে তাদের বলে দাবি করে সড়কের উপর ব্যারিকেড বসিয়ে দিয়েছে। এমন-কি স্থানীয়রা জানান সড়কের পাশে থাকা মাইল ফলক বদল করে মিজোরামের নাম লেখে দেওয়া হয়ে। এ নি‌য়ে স্থানীয়রা অত্যন্ত ক্ষোভ জাহির করে বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ থেকে এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছেন এবং এটা অসমেরই অংশ। কিন্তু হঠাত্‍ কী করে মিজোরাম সরকার ও প্রশাসন এটা তাদের বলে দাবি করে? গত সপ্তাহ দিন থেকে অসম মিজোরাম সীমান্তে এ নিয়ে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জটলা কাটাতে তত্‍পরতা শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার পুনরায় করিমগঞ্জের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার পাথারকান্দির মেদলিছড়া পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করার পর সংবাদ কর্মীদের মুখোমুখি হলেও আজকের পরিদর্শন ব্যাপারে কোনও কিছু অবগত করাননি তাঁরা।

এদিকে আজ ওই অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির এক প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে এ নিয়ে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আজ জেলাশাসকের অবস্থানকালে মিজোরাম গো ব্যাক ও অনধিকারভাবে অসমের জমি দখল করা মানবো না ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এলাকা উত্তপ্ত করে তুলেন। এদিন বালিপিপলা জিপি সভাপতি মিলন কুমার দাস সহ অন্যান্যরা জানান, আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম রাজ্য মিজোরাম সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই অনৈতিক ঘটনার সমাধান না করলে পরবর্তীতে বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অমল / এসকেডি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *