শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১১, ২০২৬

মুনির-তপন-জুয়েল স্মরণে জাতীয় যুব জোট, যুক্তরাজ্য এর ভার্চুয়াল সভা

গত ২৪শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শহীদ মুনীর-তপন ও জুয়েল এর হত্যা দিবস উপলক্ষে জাতীয় যুব জোট, যুক্তরাজ্য এর উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় যুবজোট, যুক্তরাজ্যে কতৃক আয়োজিত উপরোক্ত ভার্চুয়াল মিটিং এর সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ শাহজাহান আহম্মদ। উক্ত ভার্চুয়াল সভায় এ বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুবজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সফি আহম্মদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবিব শামীম, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহঃসম্পাদক ও সিলেট জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের কেন্দীয় কমিটির সদস্য কমরেড মোশাহিদ আহম্মদ, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, জাসদ কেন্দীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা মতিউর  রহমান মতিন, যুক্তরাজ্য জাসদের সহঃ সভাপতি মজিবুল হক মনি, সহঃ সভাপতি আব্দুল হালিম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য জাসদের সাবেক সাঃ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, যুক্তরাজ্য ন্যাপ এর সাধারন সম্পাদক সৈয়দ হাসান আহম্মদ, যুক্তরাজ্য জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, যুক্তরাজ্য জাসদের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান শাহনুর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার সাবেক নেতা আমিনুল হক চৌধুরী নাসিম প্রমূখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাষ্ট জাসদ নেতা, বাংলাদশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জ্যুতির্ময় দত্ত নিশু, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এম সি কলেজ শাখার সাবেক সাঃ সম্পাদক মকসুদ রহমান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌহিদ এলাহী, জাতীয় যুবজোট, যুক্তরাজ্যের সাঃ সম্পাদক কাজী দেলোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন খান শামীম, নারীজোট নেত্রী রেহানা বেগম, নারীজোট নেত্রী জোসনা পারভীন, হল্যান্ড প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা এমরান হোসেন, যুক্তরাজ্য যুবজোট নেতা মশিউর রহমান সোহেল, সাংবাদিক সেবুল চৌধুরী, লেখক ও সাংবাদিক সুজাত মনসুর প্রমূখ।
 
জাতীয় যুবজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন তাঁর বক্তব্য বলেন, নব্বই এর দশকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি মৌলবাদী জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে একমাত্র জাসদই সারা দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো। তখনকার সময়ে যে সকল জাসদকর্মী জামাত শিবিরের হাতে প্রাণ দিয়েছিলো। তাদের পরিবারের প্রতি যত্ন নেয়া আমাদের আদর্শিক দায়িত্ব বলে মনে করি।  সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা শফি আহম্মদ বলেন, সিলেটে সেই বর্বরোচিত হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার পর পরই তিনি সিলেট আসেন এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাচনায় বসেন। তিনি উক্ত হত্যাকান্ডটিকে সবসময়েই একটি ন্যাক্কারজনক এবং পাশবিক হত্যাকান্ড বলে বিবেচনা করেন, যা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সাম্যবাদী দলের কমরেড মোশাহিদ বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রত্যক্ষ সহায়তায় সেই বর্বোচিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলো। অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যায়েই জাসদ সেদিন আন্দোলন করেছিলো যা এখনো অব্যাহত আছে। সংবিধানের মূলনীতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি আহব্বান জানান। জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরী বলেন, এই হত্যাকান্ডের পূনঃবিচারের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের জন্যে দলের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দাবী উত্থাপন উত্তাপন জরুরী। যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী বলেন, মুনির-তপন-জুয়েল হত্যা মামলাটির পরিণতির জন্য আমরা সবার ব্যার্থতাই দায়ী। তিনিও এই বিষয়ে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের উপর জোর দেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিপ্লবী সভাপতি আহসান হাবিব শামীম বলেন, মুনির-তপন-জুয়েল হত্যাকান্ডটি আমাদের এখনো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। তাই আমরা প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দিনটিকে পালন করি এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে মৌলবাদীরা নির্বাচন করতে না পারে এজন্যে একমাত্র জাসদ ছাত্রলীগই আন্দোলন করে আসছে। এই হত্যাকান্ডটি অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হয়েছে। এই হত্যাকান্ড সহ স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনে নিহত সকল হত্যাকান্ডের পূনঃসুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক মামলাগুলোকে পূনঃবিচারের দাবীতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য আমরা আমাদের নেতা হাসানুল হক ইনু এবং শিরীন আক্তারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। যুক্তরাজ্য জাসদের সহঃ সভাপতি মজিবুল হক মনি বলেন, মুনির-তপন-জুয়েল হত্যাকান্ডটি পূনঃবিচারের জন্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটিকে নতুনভাবে উদ্যোগ নেয়া একান্ত জরুরী।

ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮৮ সালের এই দিনে সিলেটের আকাশ ছেয়েছিলো এক ঝাঁক ধর্ম্মান্ধ শকুনের কুৎসিত মহড়ায়, পবিত্র মাটি রঞ্জিত হয়েছিলো তিন তিনটি প্রগতিবাদী প্রাণের তাজা রক্তে। সেদিন জামাত-শিবিরের খুনিরা প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মী মুনির-ই-কিবরিয়া, তপন জ্যুতি দে, ও এনামুল হক জুয়েলকে। এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে তদানীন্তন স্বৈরাচার সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে জামাত-শিবির চক্র প্রভাবিত করতে প্রচেষ্টা চালায়- এর ফলশ্রুতিতে এখনো সেই খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বক্তারা খুনিদের বিচার দাবি করে উক্ত ভার্চুয়াল সভা শেষ করেন।

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমরান আহমেদ প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *