২টির বেশি সন্তান চলবে না। নয়া জনসংখ্যা নীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মুসলিমদেরই বেশি দুয়ের অধিক সন্তান হয়, এই ধারণা থেকে তিনি আগেই তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ রীতি মানার আবেদন করেছেন। এবার তিনি এর স্বপক্ষে সওয়াল করলেন, রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গরীবি, নিরক্ষরতা দূর করার একমাত্র উপায় দুই সন্তান নীতি।
সংবাদ সংস্থার খবর, বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণই হবে এতে। তাদের তরফে কোনও বাধা, আপত্তি এসেছে বলেও মনে হয় না। অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন গত মাসে আমার সঙ্গে আলোচনায় অসমে মুসলিমদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্য়বস্থার প্রয়োজন আছে বলে স্বীকারও করেছে। জুলাইয়ে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করব। তাঁরাও সরকারি পলিসি সমর্থন করবেন বলে আমি নিশ্চিত। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সম্প্রসারণ ঘটানো, তার মাধ্যমে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি আটকানোই রাজ্য সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য বলে জানিয়েছিলেন হিমন্ত। তাঁর দাবি, অসম বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৬ শতাংশের বেঁধে রাখার সফল। কিন্তু পরিসংখ্যানের আড়াল সরে গেলেই দেখা যাবে, মুসলিম জনসংখ্যা দশকের হিসাবে বাড়ছে ২৯ শতাংশ, সেখানে হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, মুসলিমদের ভিতর থেকেই যাতে এক ধরনের নেতৃত্ব তৈরি হয়, সেজন্য আগামী মাসেই বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কথাও বলবেন। প্রায় ১৫০ মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা হবে তাঁর। কিছুদিন আগেই হিমন্ত তাঁর সরকারে দুই সন্তান নীতি চালুর প্ল্যানের কথা জানান। এও জানান, এই নীতি মেনে চলা পরিবারগুলি বিশেষ কিছু স্কিমের সুযোগ সুবিধা পাবে। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই সন্তান নীতি শর্ত হিসাবে চালু হবে। এটা আমার ঘোষণা বলতে পারেন।