বিশু / সমীপ, কলকাতা: মেঘালয়ে বাঙালি নির্যাতন শীঘ্রই বন্ধ করতে এবং ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপে লিপ্ত খাসি ছাত্র ইউনিয়ন (কেএসইউ)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল করে মেঘালয়ের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র পাঠিয়েছে ‘আমরা বাঙ্গালী’, ‘শিবসেনা’, ‘বাংলা ভাষা একতা মঞ্চ’, ‘সারা বাংলা ছাত্র যুব সংস্থা’, ‘রিপাবলিক পার্টি অব ইন্ডিয়া’, ‘বঙ্গভাষী’, ‘দলিত ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন পরিষদ’ প্রভৃতি সংগঠন।
সংগঠনগুলির নেতারা বলেছেন, বারবার মেঘালয় সরকারের কাছে আবেদন করার পরও ওই রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচার অব্যাহত। বাঙালি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে তীব্র প্রতিকূলতা সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে খাসি স্টুডেন্টস্ ইউনিয়ন প্রকাশ্যে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আপত্তিকর ব্যানার লাগিয়ে বলেছে, ‘মেঘালয়ের সকল বাঙালি বাংলাদেশী’। এ ধরনের অসাংবিধানিক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আজ বৃহস্পতিবার ‘আমরা বাঙ্গালী’র ডাকে ‘শিবসেনা’, ‘বাংলা ভাষা একতা মঞ্চ’, ‘সারা বাংলা ছাত্র যুব সংস্থা’, ‘রিপাবলিক পার্টি অব ইন্ডিয়া’, ‘বঙ্গভাষী’, দলিত ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন পরিষদ’ প্রভৃতি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে কলকাতার রুবি হাসপাতাল কানেক্টর থেকে কসবায় অবস্থিত মেঘালয় ভবন পর্যন্ত পথমিছিল করেন সংগঠনগুলির কর্মকর্তারা। পথমিছিল শেষে তাঁরা মেঘালয় ভবনে কার্যনির্বাহী আধিকারিকের মাধ্যমে মেঘালয়ের রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৃথক স্মারকপত্র প্রদান করেছেন।
পরে ‘আমরা বাঙ্গালী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব বকুল রায় বলেন, ‘বাঙালি বিদ্বেষী, সন্ত্রাসবাদী খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’ ‘আমরা বাঙ্গালী’র কেন্দ্রীয় ছাত্র-যুব সচিব তপোময় বিশ্বাস হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে মেঘালয়ে বাঙালিদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে সারা বাংলা জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা। আজকের বিক্ষোভ মিছিলে পা মিলিয়েছেন চন্দন চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট আইনজীবী নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ রায়, বাপি পাল, যুব নেতা কৌস্তুভ সাহা, অর্ণব কুণ্ডু চৌধুরি, দীবেন্দু চৌধুরি প্রমুখ অনেকে।

