পিএসজিতে নাম লেখানোর পর সবচেয়ে ভালো রাত কালই কেটেছে লিওনেল মেসির। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে কাল প্রথম গোল পেয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সেই গোলও কী অসাধারণই না ছিল! মাঝমাঠে বল পেয়ে এগিয়ে যান সামনে। বক্সের কাছে গিয়ে তিনি বল দেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ফরাসি স্ট্রাইকার দারুণ ব্যাক ফ্লিকে বল আবার মেসিকে দিলে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
এমন শৈল্পিক গোল উপহার দেওয়ার দিনেই কিনা মেসিকে আবার নিতে হয়েছে ‘শ্রমিকের’ ভূমিকা! রক্ষণে তাঁকে অমন ভূমিকা নিতে দেওয়া মানতেই পারছেন না ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমানে ফুটবল পণ্ডিত হিসেবে কাজ করা রিও ফার্ডিনান্ড। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২০০৮ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো ফার্ডিনান্ড বেজায় খেপেছেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর ওপর।
৭৪ মিনিটে মেসির জাদুকরি গোল, তার আগে পিএসজির প্রথম গোলটি ইদ্রিসা গানা গেয়ে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে পিএসজি জয় পেয়েছে ২–০ গোলে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে পিএসজির বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি–কিক পায় ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ফ্রি–কিকের সময় অন্য রকম একটি ভূমিকা নিতে হয়েছে মেসিকে। সতীর্থদের গড়া দেয়ালের পেছনে শুয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। দেয়ালের খেলোয়াড়েরা লাফিয়ে উঠলে গড়িয়ে ফ্রি–কিক নিলে যাতে পিএসজির পোস্টের দিকে বল না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই মেসির শুয়ে পড়া!
মেসি ফ্রি-কিক নেওয়ার সময়ে প্রতিপক্ষ দলকে এই কৌশল নিতে এখন সব সময়ই দেখা যায়। অথচ কাল মেসিই কিনা এভাবে মাটিতে গড়ালেন! দলের প্রয়োজনেই করেছেন সেটি, কিন্তু মেসি-রোনালদো-নেইমারদের মাপের খেলোয়াড়দের এমন কিছু করতে কখনো যে দেখা যায় না। মেসিকে কাল এভাবে মানবদেয়ালের পেছনে শুয়ে পড়তে দেখা তাই অবিশ্বাস জাগিয়েছে অনেকের মনে।
কৌতুকও হয়েছে এ নিয়ে। যাঁর বন্ধুত্বের টান মেসির পিএসজিতে যাওয়ার পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে, সেই নেইমার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মেসির মানব দেয়ালের পেছনে শুয়ে পড়ার ছবিটি দিয়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নেইমার মেসিকে কী যেন বলছেন। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ছবিটি দিয়ে নেইমার ছবির গায়ে মেসিকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘তুমি ওখানে কী করছ!’ পাশে হাসির ইমোজি। বন্ধুকে বন্ধুর খোঁচানো আর কী!
কিন্তু সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে এমন ভূমিকা নিতে হওয়ার বিষয়টি যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না ফার্ডিনান্ড। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ম্যান সিটি বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি–কিক পেলে যে এভাবেই দেয়াল গড়া হবে, তা নিশ্চয়ই অনুশীলন করে এসেছে পিএসজি। সেই প্রসঙ্গ টেনে ম্যাচের পর ইংলিশ চ্যানেল বিটি স্পোর্টসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ফার্ডিনান্ড বলেছেন, ‘অনুশীলন মাঠে পচেত্তিনো মেসিকে যখন এটা করতে বলেছে, কারও না কারও বলা উচিত ছিল, “না, না, না, না না। লিও মেসির মতো খেলোয়াড়ের এটা করা উচিত নয়।” এটা অবমাননাকর, আমি (মেসি হলে) এটা করতাম না।’
ফার্ডিনান্ড যদি পিএসজি দলে থাকতেন, তাহলে তিনি এর প্রতিবাদ করতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি, ‘আমি যদি এ দলে থাকতাম, তাহলে আমি (মেসিকে) বলতাম, “শোনো, আমি তোমার বদলে ওখানে শুয়ে পড়ব।” দুঃখিত, আমি ওর এভাবে ফ্রি–কিক ঠেকাতে মাটিতে শুয়ে পড়া মানতে পারছি না। দেখতেই খারাপ লাগছে! মেসির মতো খেলোয়াড়দের জার্সি নোংরা হতে পারে না! এ কাজ মেসির মতো খেলোয়াড়দের নয়।’
শুধু ফার্ডিনান্ডই নন, মেসির এমন ভূমিকা নিতে হওয়ায় বিশ্বজোড়া ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নুবাইদ নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘একটু ভেবে দেখুন, মেসিকে দিয়ে এ কাজটা কে করাতে পারে!’ আরেকজন মেসির চিরবিনয়ী চরিত্রের প্রশংসা করে টুইট করেছেন, ‘দেয়াল গড়তে মাঠে মেসির শুয়ে পড়া দেখাটা ছিল আজকের রাতের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। কী দুর্দান্ত বিনয়!’
মেসির গোলের অবশ্য উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন ফার্ডিনান্ড। তাঁর চোখে ‘ফেনোমেনাল’ গোলটার বিশ্লেষণে ফার্ডিনান্ড বলছেন, ‘গতি, শক্তি, ওভাবে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখা, ও বলটাকে জালের যে অংশে পাঠিয়েছে (দৌড়ের মধ্যেই প্রথম স্পর্শে), ওভাবে বলটাকে ওখানে পাঠানো…চোখ ধাঁধানো!’

