শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

যাজকের অন্ত্যেষ্টিতে ১০ হাজার মানুষের জমায়েত! করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সিল করা হলো ৩ গ্রাম

হাইলাইটস

  • সেই নিয়ম যে শুধুই খাতায়-কলমে, নতুন করে তার প্রমাণ মিলল আসামে।
  • কিন্তু ধর্মগুরুর ছেলে, বিধায়ক আমিনুল ইসলামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সৌজন্যে বিষয়টি সামনে আসে।
  • নিয়ম মেনেই জেলাপ্রশাসনকে ধর্মগুরুর শেষযাত্রার কথা জানানো হয়েছিল যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ডিজিটাল ডেস্ক: সংক্রমণ এড়াতে নিয়ম রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শেষকৃত্যে ২৫ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। কিন্তু সেই নিয়ম যে শুধুই খাতায়-কলমে, নতুন করে তার প্রমাণ মিলল অসমে। নওগাঁ জেলায় ধর্মগুরুর শেষকৃত্যে ভিড় করলেন হাজার হাজার মানুষ। এরপরেই করোনার ভয়ে ৩টি গ্রামে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন।

গত ২ জুলাই মারা যান নওগাঁ জেলার জনপ্রিয় মুসলিম ধর্মগুরু খায়রুল ইসলাম। তিনি অল ইন্ডিয়া জামিয়তে উলেমার সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া উত্তর-পূর্বের ‘আমির-ই-শরিয়ত’ও ছিলেন। তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম নওগাঁর ধিং কেন্দ্রের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (AIUDF)-এর বিধায়ক। তাই নওগাঁয় যথেষ্টই প্রভাব ছিলেন বছর ৮৭-র খায়রুল ইসলামের।

সূত্রে খবর, মৃত ধর্মগুরুর পরিবার চেয়েছিল ৩ জুলাই শোকমিছিল ও শেষকৃত্য হোক। পরে পরিকল্পনা বদলে ২ তারিখই শেষকৃত্য হয়। ধর্মগুরুর শেষযাত্রায় কাতারে কাতারে লোক জড়ো হন। তার মধ্যে অনেকের মুখে না ছিল মাস্ক, না মানা হচ্ছিল দূরত্ববিধি। সরকারি হিসেবেই শেষকৃত্যে ১০ হাজার মানুষ ছিলেন। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা আরও বেশি। ভিড়ের বিষয়টি প্রথমে নওগাঁর বাইরে বেরোয়নি। কিন্তু ধর্মগুরুর ছেলে, বিধায়ক আমিনুল ইসলামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সৌজন্যে বিষয়টি সামনে আসে। বাবার শেষযাত্রায় বিশাল ভিড়ের ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন তিনি। এরপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় নওগাঁর ৩টি গ্রামে পুরোপুরি লকডাউন জারি করা হয়। গোটা ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের হয়। যারমধ্যে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। নওগাঁর ডেপুটি কমিশনার যাদব সাইকিয়া বলেন, ‘শেষযাত্রায় কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা ছিল না। কিন্তু ভিড়ে দূরত্ববিধি বজায় রাখা, মাস্ক পরার মতো নিয়ম মানা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে প্রয়াত ধর্মগুরুর বিধায়ক-পুত্র জানিয়েছেন, তাঁর বাবা খুব জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ভক্তের সংখ্যাও প্রচুর। নিয়ম মেনেই জেলা প্রশাসনকে ধর্মগুরুর শেষযাত্রার কথা জানানো হয়েছিল যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *