।। হাসানাত আরিয়ান খান।।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমুর শহরের একটি সড়কের নাম চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে এটি ছিলো দ্বিতীয় সড়ক। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের চাপে এবং তাদের দেওয়া মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণ করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণের খবরে আগাচৌ খ্যাত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও শাচৌমা খ্যাত শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আস্ফালন করছেন, পত্রিকায় কলাম লিখে দেশের মানুষকে সেটা জানান দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি ফ্রন্ট চুপ আছেন, নীরব আছেন। অল কোয়ায়েট ইন বিএনপি ফ্রন্ট!
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতীয় বীর, চির উন্নত শির। তিনি কমান্ডার ছিলেন, দেশপ্রেমিক ছিলেন, বিপ্লবী ছিলেন, স্বাধীনচেতা ছিলেন। তিনিই প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, জাতিকে সাহস দিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা, জেড ফোর্র্সের অধিনায়ক, বীর উত্তম, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার চেয়ে বড় কথা তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও সফল বাংলাদেশের সূচনা করেছিলেন। প্রত্যয় দীপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র আছে কিন্তু কোন প্রভু নেই। ভারতীয় আধিপত্যবাদকে ঠেকাতে তিনি সার্ক গঠন করেছিলেন। জাতির প্রতিটি সংকটে, প্রয়োজনের মুহুর্তে জাতিকে তিনি বলিষ্ঠ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সন্মান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমুর শহরের একটি সড়কের নাম ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণ করা হয়েছিল। এর দ্বারা শুধু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই গৌরবান্বিত হননি, গৌরবান্বিত হয়েছিল বাংলাদেশ, গৌরবান্বিত হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের জাতীয় নেতাদের যেভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার কথা, যেভাবে তাদের কাজগুলোকে আরো অনেক জাতীয় নেতা সৃষ্টির পথকে এগিয়ে নেয়ার কথা, প্রবাসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে যেভাবে আমাদের আরও জাতীয় নেতা ও জাতীয় বীরদের নামে সড়কের নামকরণের দাবী করার কথা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি হয়নি। উল্টো আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা প্রতিহিংসাবশত মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমুর শহরের ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণ করিয়েছেন।
কিভাবে এই অপকর্মটি করা হয়েছে, কারা কারা এর সাথে জড়িত ছিলেন সেই ফিরিস্তি জাস্টিস শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ ও ‘বিডি নিউজ২৪’ এ তার লেখা কলামে নিজেই দিয়েছেন। কালের কন্ঠে তার কলামের সাথে নিজের পাউডার মাখা মুখের একটা ছবি দিয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সাথে তিনি জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর শহরে জিয়াউর রহমান ওয়ে নামকরণের খবরটি পেয়ে অবাক এবং মর্মাহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা, বিশেষ করে দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। তারা প্রতিজ্ঞা করেন এই নাম অপসারণ করার সব চেষ্টাই করতে হবে। তিনি ঢাকায় বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেটার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ তিনেক আগে এক দিন ড. সেলিম মাহমুদ এবং ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কুমার দেবল আমার বাড়ি এলে আমরা কৌশল নির্ধারণ করি। আমার ওপর দায়িত্ব প্রদান করা হয় আমাদের হাই কোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যেসব নিন্দামূলক মন্তব্য করেছে, সেগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে বাল্টিমুর মেয়রের কাছে পাঠানোর। আমি সেই মতে বাল্টিমুরের মেয়র সাহেবকে যা লিখলাম তা হলো এই যে, ২০১১ সালের মার্চ মাসে হাই কোর্ট বিভাগ এক মামলার রায়ে জিয়াউর রহমানকে ঠান্ডা মাথার খুনি বলে উল্লেখ করে..। এবং জনগণ যেন সর্বকাল তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আমি উল্লেখ করি যে, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দেওয়া সাক্ষ্যগুলো নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণ করে যে, জাতির জনকের হত্যায় জিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, যে কথা কি না জিয়ার অতি আপনজন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার পুস্তক ‘চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট’-এ পরিষ্কার করেই লিখেছেন। এ ছাড়াও ১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট লন্ডনে এক টেলিভিশন টকশোতে দুজন খুনি যথা কর্নেল ফারুক এবং রশিদ অকপটেই প্রকাশ করেছে যে, তারা জাতির পিতার হত্যা পরিকল্পনা নিয়ে তৎকালীন দ্বিতীয় সেনাপ্রধান জিয়ার সঙ্গে আলাপ করেছে এবং জিয়া তাদের পুলিশে না দিয়ে বরং উৎসাহিত করে তখনই রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছিল। তদুপরি ১৯৭৬ সালের ৩০ মে লন্ডনের বহুল প্রচারিত ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকায় এক পূর্ণ পৃষ্ঠা লিখনীর মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত খুনি কর্নেল ফারুক জাতির পিতা হত্যায় জিয়ার ভূমিকার বিশদভাবে উল্লেখ করে…। অন্যদিকে সিদ্দিকী সাহেবসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতারাও বহু স্বাক্ষর সংবলিত একটি প্রতিবাদলিপি পাঠালে বাল্টিমুরের মেয়র সাহেব দুটি প্রতিবাদলিপি এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত সমস্ত তথ্য-উপাত্ত, যথা হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের রায়, পর্যালোচনা করে আমাদের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফরমে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিলে আমরা কজনা, যথা যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, শামীম চৌধুরী, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, মঞ্জুর চৌধুরী, অ্যাড. শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, এম এ করিম জাহাঙ্গীর, জালাল উদ্দিন জলিল, টি মোল্লা, রুমানা আক্তার, শহিদুল ইসলাম ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আমি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত যোগদান করি। ওই জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে আমাদের দাবি উত্থাপন করি। বাল্টিমুর মেয়রের পক্ষে ছিলেন ক্যাটলিনা রদ্রিগেজ, ডেভিড লিয়াম প্রমুখ। ওই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সবার কথা ও মতামত শোনার পর মেয়রের পক্ষে পরিষ্কার ঘোষণা দেওয়া হয় যে, ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামে যে সড়কটির নামকরণ করা হয়েছিল, তা মুছে দেওয়া হলো এবং সড়কের দেয়াল থেকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের নেমপ্লেটও বিনা বিলম্বে তুলে নেওয়া হবে।’ জাস্টিস মানিক তার এই অপকর্মের সাথে আরও যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়ে তার প্রবন্ধটি শেষ করেছেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাস্টিস হওয়া শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের পক্ষে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মানিকের মত জাস্টিসরা বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছেন। অবসরের পর এখন আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি, মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর তাই আওয়ামী লীগের পক্ষে দালালি করছেন। তিনি ২০১১ সালের মার্চ মাসে হাইকোর্ট বিভাগের যে রায়ের কথা এখানে উল্লেখ করেছেন, সেই রায়টি তিনি নিজেই লিখেছেন। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত বিচারক হিসাবে বাংলাদেশ হাইকোর্টে নিয়োগ দেন। বিচারক হয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তিনি ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার গাড়ি সালাম না করার জন্য আদালত অবমাননার অভিযোগ করেন। বিচারকের গাড়িতে সালাম না দেওয়ার কারণে ট্র্যাফিক সার্জেন্টদের আদালতে কান ধরে বসে থাকতে বাধ্য করেন। মানিক তার অবস্থানের অপব্যবহারের মাধ্যমে ইকোনমি শ্রেণির টিকিট কিনে জোর করে ব্যবসায়িক শ্রেণির আসনে বসে ভ্রমণ করেন। বিচারক হিসেবে আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে হাই কোর্টে একজন পূর্ণ বিচারক হিসাবে নিয়োগ দেন। এরপর তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পদোন্নতি দেন। মানিক ২০১৫ সালে অবসর নেন। বাংলাদেশের চিফ জাস্টিস সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে তাকে বেঞ্চ থেকে সরানো হয়। তিনি গোপনে তার এবং সিনহার মধ্যে কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং কথোপকথনটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশ করেন। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মানিককে বিদায়ী হোস্টিংয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেন। তিনি অবসর নেওয়ার পরেও ৬৫ টি আদেশ এবং রায় লিখে জমা দেন। চিফ জাস্টিস তার অবসর গ্রহণের পরে প্রদত্ত রায়কে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন। দেশে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপকর্মের জন্য লন্ডনে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। প্রকাশ্যে তাকে চড় চাপড় মারা হয়। এই হলেন জাস্টিস শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
এবার আসেন দেখি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কী বলেছেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বরাবরই যেমন মৃত লোকের রেফারেন্স দিয়ে লিখেন, দৈনিক যুগান্তরে ‘জিয়া তো যাচ্ছেন, তার রাজনৈতিক কালচার কি যাবে?’ শিরোনামের লেখাতেও তিনি তাই করেছেন। তিনি প্রথমে ধান ভানতে শিবের গীত গেয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে মানুষের প্রতিমূর্তি রাজপথে ভেঙে ফেলা দিয়ে তার লেখা শুরু করেছেন তারপর আসল জায়গায় অর্থাৎ ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণ দিয়ে তার লেখা শেষ করেছেন। প্রশ্ন করেছেন, ‘জিয়া তো যাচ্ছেন, তার রাজনৈতিক কালচার কি যাবে?’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘…ইতিহাসের কী বিস্ময়কর প্রতিশোধ! বাংলাদেশে পঁচাত্তরের খুনিদের সম্পর্কেও ইতিহাস তার মাথা দোলাতে শুরু করেছে। আমেরিকার বাল্টিমোর শহরে জিয়াউর রহমানের নামে একটি রাস্তার নাম রাখা হয়েছিল, রাস্তাটির নাম ছিল ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’। সম্প্রতি হঠাৎ ধাতব অক্ষরে লেখা ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলকটি আর দেখা যাচ্ছে না…। বাল্টিমোর শহরের মেয়রের নির্দেশে এটা করা হয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, তিনি অনেক প্রমাণপত্র এবং সাক্ষী-সাবুদের কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে জেনেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। এ রকম একজন খুনির নামকে আদর্শ মানুষের প্রতীক হিসাবে রাস্তার নামফলকে রাখা যায় না। বাংলাদেশেও এ সত্যটি আজ প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে রাতারাতি তা করা সম্ভব হয় না। তবু হাসিনা সরকার অনেক কষ্ট করে ঢাকার প্রধান বিমানবন্দর থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণ করেছেন। জাতীয় সংসদ চত্বর থেকে জিয়ার কবর নামে অভিহিত কবরটি অন্যত্র সরাতে চাচ্ছেন। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি বেগম জিয়ার দখলমুক্ত করে সামরিক দপ্তরকে দলীয় রাজনীতির পরিবেশ মুক্ত করেছেন। কিন্তু সারা দেশে এখনো জিয়াউর রহমানের নাম ধারণকারী স্কুল-কলেজ ও নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোর সংস্কার সাধনে আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ সময় লাগবে।…গোটা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে বিএনপির পলিটিক্যাল কালচার গ্রহণ করেছে। সেই দাড়ি, টুপি, বক্তৃতার শুরুতে বিসমিল্লাহর উচ্চারণ প্রতিযোগিতায় দেশ আজ সরগরম। আমরা রাস্তার নামফলক থেকে জিয়ার নাম সরাব, চন্দ্রিমা থেকে জিয়ার কবর সরাব, এসবই ইতিহাসের কাজ। ইতিহাসের এ কাজকে সহজ করার জন্য আমরা যারা মুজিবপন্থি বলে দাবি করি, আমাদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করা উচিত। ইতিহাসের উল্টো বাতাসে জিয়ার নাম আজ বাল্টিমোর শহর থেকে উড়ে গেছে। ঢাকায় চন্দ্রিমা থেকেও তার নকল কবর হয়তো সরবে; কিন্তু জিয়া কালচারের যে ভূত আমাদের রাজনীতি, শিক্ষানীতি, সামাজিকনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে রেখেছে, সে ভূতটি তাড়াবে কে? এ ভূত না তাড়ালে আমাদের সমাজ-প্রগতি মুক্ত হবে না। অর্থনীতিও মুক্ত দরজা পাবে না। উন্নয়নের নামে আমরা যেসব বড় বড় ব্রিজ, দালানকোঠা তৈরি করছি, তা ভবিষ্যতে এক সময় প্রাগৈতিহাসিক যুগের ভগ্নাবশেষ বলে দাঁড়িয়ে থাকবে।…দেশের টকশোগুলোয় বক্তাদের বক্তব্য শুনলেই মনে হয় জিয়াউর রহমান যেন কথা বলছেন।’
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে যা বলার বলেছেন। তবে ‘দেশের টকশোগুলোয় বক্তাদের বক্তব্য শুনলেই মনে হয় জিয়াউর রহমান যেন কথা বলছেন।’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর এই কথাটাতে পাঠকরা খুবই মজা পেয়েছেন এবং হাসিমুখে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বলেছেন, ‘টকশোগুলোর জনপ্রিয়তার বোধহয় এটাই বড় কারণ।‘ যাইহোক, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রায় একই সুরে কোরাস গেয়েছেন। তারা ইতিহাস তুলে ধরে জিয়াউর রহমানকে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আসুন আমরা এবার দেখি ইতিহাস কী বলছে, ‘…১৯৭৫ সালে ক্যান্টনমেন্টে অভ্যুত্থানের গুজব প্রতিদিনই ভেসে বেড়াত। শেখ মুজিবকে উৎখাত করা হবে, একথা তখন ক্যান্টনমেন্টের প্রায় সবাই জানত। সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ, শাফায়েত জামিল সবাই জানতেন। শেখ মুজিবুর রহমানের কানেও গিয়েছিল সে খবর। এ প্রেক্ষিতে ১৫ আগস্টের ১০ দিন আগে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেখা করেন শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে, এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। আলতাফ পারভেজ রচিত “অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ, কর্নেল তাহের ও জাসদের রাজনীতি” গ্রন্থের ৮২ পাতায় লেখা হয়েছে, “১৫ আগষ্টের দশ দিন আগে জেনারেল জিয়া শেখ মুজিবকে সেনা অভ্যূত্থানের আগাম খবর দিয়েছিলেন!” ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনোমিক রিভিউ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়, ‘আগস্ট অভ্যুত্থানের দশ দিন আগে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিয়াউর রহমান তাঁকে জানান যে, সেনাবাহিনীতে গোলমাল চলছে। শৃঙ্খলা রক্ষা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’ এরপর শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল্লাহ শেখ মুজিবকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সেনাবাহিনী ঠিক আছে। তার কিছুদিন পরেই ঘটে ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড। অভ্যুত্থানের গুজব নিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান কথা বলেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ এবং প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। এর চেয়ে আর কী করতে পারতেন তিনি? শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সাথে যদি জিয়াউর রহমানের নিজের সংযোগ থাকে তবে কি কারণে তিনি অভ্যুত্থানের দশ দিনে আগে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে তাকে সতর্ক করবেন? এতে বুঝা যায়, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন না। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যায় জিয়াউর রহমানের কোন ভূমিকা ছিল না। ফলে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের যে যুক্তি, জিয়া হত্যাকারীদের সহযোগি ছিল। সেটা একদমই টিকে না। কারণ, সহযোগি হলে জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানকে সতর্ক করবেন কেন? আবার সতর্ক করার পরে, শফিউল্লাহ কেন বললেন, সব ঠিক আছে! কেন শফিউল্লাহ পরিকল্পনাকারীদের আটকান নাই? কে এম শফিউল্লাহ তো চিফ অফ আর্মি স্টাফ ছিলেন। জিয়াউর রহমানের তখন কি করার ছিলো? উনি তো চাইলেই, ব্যবস্থা নিতে পারেন না। ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে বা চিফ অফ স্টাফ শফিউল্লাহকে। জিয়াউর রহমানের যেটা করার ছিল, শেখ মুজিবুর রহমানকে ইনফরম করার, সেটা উনি করছেন। তারপরে উনার আর কী করার আছে? এটা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যর্থতা যে ইনফরমড হওয়ার পরেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেন নাই। এটা ডিজিএফআই ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ব্যর্থতা যে তারা মুজিবুর রহমানকে ইনফরম করেন নাই। ইন রিয়েলিটি জিয়াউর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে, যদি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়, আগামী যে কোন ক্যু ও কাউন্টার ক্যু তে দেশ এমন অবস্থায় যাবে যে, তার নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে। এবং তাই কিন্তু হয়েছে। তাকে ক্যু এর মাধ্যমে বন্দী করা হয়েছে। এবং সেই অবস্থায় তিনি যে কোন মুহূর্তে মারা যেতে পারতেন। জিয়াউর রহমান যদি হত্যাকারী হতেন বা হত্যাকারীদের সহযোগি হতেন তাহলে ব্রিগেডিয়ার শাফায়াত জামিলের কাছে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের খবর শুনে তিনি ক্ষমতা দখল করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি বরং শাফায়াত জামিলকে সংবিধান রক্ষা করার কথা বলেছেন, সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড সো হোয়াট? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। গেট ইউর ট্রুপস রেডি। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন।” জিয়াউর রহমান যদি তখন মারা যেতেন, আওয়ামী লীগ ও আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গংদের বর্তমান সময়ের বিশাল সিম্বল হতো জিয়াউর রহমান। তারা প্রতি বছর জিয়াউর রহমানের মাজারে নিয়ম করে সিন্নি দিতেন। কিন্তু, জিয়াউর রহমান লাকি এবং ডিসাইসিভ। তাই তিনি বেঁচে গেছেন। নিয়তি তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। বেঁচে থেকে নতুন একটা বাংলাদেশ তিনি গড়ে তুলেছেন যেখানে আর কোন দুর্ভিক্ষ হয় নাই, সীমাহীন লুটপাট হয় নাই, দুর্নীতি হয় নাই, স্বজনপ্রীতি হয় নাই, দলবাজ, অযোগ্য ও অপদার্থদের নিয়োগ হয় নাই, অনৈতিকতা ও ভ্রষ্টাচারিতা তাকে স্পর্শ করে নাই, এবং মেধাহীন রাষ্ট্র তিনি তৈরি করেন নাই। যদিও যা পরবর্তীতে আর ধরে রাখা যায় নাই। তারপরেও মাত্র সাড়ে তিন বছরে জিয়াউর রহমান যা গড়ে দিয়েছিলেন, তার সুফল আমরা এখন পর্যন্ত পাচ্ছি। পোশাক শিল্প বলেন, রেমিটেন্স বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বা আশার ক্ষুদ্র ঋণ, ইসলামি ব্যাংক, আইসিসিডিআরবি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, মেধাভিত্তিক প্রশাসন, জুডিসিয়ারির ইন্ডিপেন্ডেন্স, ফ্রিডম অফ প্রেস,খাদ্য নিরাপত্তার জন্যে শস্য গুদাম, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, পাট শিল্প, ফার্টিলাইজার কৃষি সব কিছুতেই তিনি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। বাংলাদেশ যে ফেইলর হয় নাই তার সব কিছুর মুলে রয়েছে তার তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি শুধু বিল্ডিং তৈরি করেন নাই, অনেকগুলোকে শিরদাড়াও তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর তাই তার মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসন ছিল, সমৃদ্ধি, সম্মান আর উন্নয়নের। এই সাড়ে তিন বছরেই তৎকালীন ৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। ১৯৮০ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ প্রথম চাউল রফতানি করেছিলো, আফ্রিকার গিনি তে ১ লক্ষ্য ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল রফতানির মাধ্যমে, বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে। অথচ কিছুদিন আগে যে দেশকে দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, দুঃশাসন, চরম দ্রারিদ্রতা, সর্বোপরি তলাবিহীন ঝুড়ি নামে চিনতো। একজন সফল নেতা, তার নেতৃত্ব, দেশ প্রেম, অক্লান্ত পরিশ্রমের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় ৮ কোটি মানুষকে করে তুলেছিলেন, কর্মমুখী, দেশপ্রেমিক, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ একটি গর্বিত জাতিতে। জিয়াউর রহমান যে কতটা দূরদর্শী এবং বাস্তবধর্মী প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৭৯ সালে তার করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা পড়লে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুব ভালো করে বুঝতেন চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের গুরুত্ব কী এবং সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এইটা না থাকলে কত ধরণের বিপদ হতে পারে। তাই এই বিধিমালায় যৌতুক নেয়া থেকে শুরু করে নিয়মিত সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার মত বিধান যুক্ত করেছিলেন। সরকারি কর্মচারীদের কোন ধরণের দামী উপহার নেয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রেখেছিলেন। এমনকি নিজের বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছ থেকেও যদি দামী কোন উপহার পায় কেউ, সেটা সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করেছিলেন। এই বিধিমালাতেই সরকারি কর্মচারী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায় জড়ানো নিষিদ্ধ করেছিলেন। এমনকি কোন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে অন্যান্য কর্মচারীদের গণজমায়েত ও প্রশংসাসূচক বক্তৃতাও নিষিদ্ধ করেছিলেন। শুধু এই একটা বিধিমালা যদি বাস্তবায়ন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে আজকে এই হরিলুট দেখতে হতোনা। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মানুষ অসহায়ের মত মরতো না। জিয়াউর রহমান এমন একজন মানুষ যাকে ভালোবাসতে বিএনপি করতে হয়না। শুধু ভালোবাসার মত একটা মন থাকলেই হয়। অবশ্য কাউকে সম্মান করতে, শ্রদ্ধা করতে, শিক্ষা লাগে, কলিজা লাগে। আর অসম্মান করতে কিছুই লাগেনা, জাস্ট মূর্খতা থাকলেই হয়। পরিবার এবং সমাজ থেকে মানুষের মাঝে মূর্খতা ইনহেরিট করে। এখন মূর্খতার জয় জয়াকার চারিদিকে।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকেরা সভ্যতা, ভব্যতা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ছুড়ে ফেলে আজকে আওয়ামী লীগারদের চাইতেও বড় আওয়ামী লীগার সেজেছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সেক্রেটারি শামসুল হক, কোষাধ্যক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ খান, দুইবারের সভাপতি মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, তিনবারের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদদের ভুলে শুধুমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের নাম করছেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান বাকশালের নেতা ছিলেন। বাকশালের নেতা হিসেবেই তিনি মারা গেছেন। বাকশাল তার শেষ দল। বাকশালই তার শেষ রাজনৈতিক চিন্তা। তিনি সজ্ঞানে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেছিলেন। সজ্ঞানে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করেছিলেন। বাকশালই তার চুড়ান্ত রাজনৈতিক আদর্শ। অথচ আজ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও মিত্ররা আরও যারা শেখ মুজিবের নামে গলা ফাটায় তারা কেউ বাকশাল করেনা। বাকশালের আদর্শের কথা বলেনা। শেখ মুজিবুর রহমান নিজে যেই দলকে বিলুপ্ত করেছিলেন সেই ১৯৭৫ সালে সেই তামাদি দলের রাজনীতি করে সেইটাকে শেখ মুজিবের আদর্শ বলে এরা চালায়। এর চাইতে বড় ভণ্ডামি আর কী হতে পারে? বাকশাল নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিত্যক্ত দল আওয়ামী লীগের নেতারাই হত্যা করেছেন। তার লাশ সিঁড়িতে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী সভায় তারা শপথ নিয়েছেন। অথচ আজ অন্যায়ভাবে সব দায় তারা জিয়াউর রহমানের উপরে চাপাচ্ছেন। মুজিবপন্থি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার কলামে ‘জিয়ার রাজনৈতিক কালচার কি যাবে’, প্রশ্ন করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে এই রাষ্ট্র তৈরি করে গিয়েছেন, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে; শেখ হাসিনা সেই প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রক্রিয়াকে পারমানেন্টলি ধ্বংস করে, আনুগত্য এবং চাটুকারিতার ভিত্তিতে অলরেডি রিপ্লেস করে দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে ১৪০০ খাল খনন করেছেন, তার এই খাল কাটা শুধুমাত্র উৎপাদনেই সহায়ক ছিল না, এর ছিল সামরিক একটি দিক। সামরিক পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য যে এই প্রকল্পটি কাজ করছিল সেটি ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি সেনানিবাসের সংখ্যা বাড়ানোর সাথে বাড়ান সেনা সক্ষমতা, সংখ্যা ও সমরাস্ত্র। অক্সিলিয়ারী ফোর্স হিসেবে তৈরী করেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। সাথে থাকে আর্মড পুলিশ ও ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর। বিপুল সংখ্যক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী সেনা তত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। তিনি সমরাস্ত্র কারখানা গড়ে তোলেন, দেশে বন্ধু দুটি রাষ্ট্রের সহায়তায় পৃথিবীর সর্বাধুনিক ট্যাংক ও যুদ্ধ বিমান তৈরির প্রকল্পও হাতে নেন। ভারত যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে তালপট্রি দখল করতে এলে তিনিও পাল্টা যুদ্ধ জাহাজ পাঠান। সামরিক উওেজনার এক পর্যায়ে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ চলে যেতে বাধ্য হয়। ভারতীয় সরকার ও তাদের ‘র’ যখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নামে বেনামে নানা বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে বাধ্য হয়ে জাতীয় স্বার্থে জিয়াউর রহমানও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি ভারতের অভ্যন্তরে পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করেন। এবং এক সময় দিল্লী এই পাল্টা ব্যবস্থার কাছে হার মানতে শুরু করে। আর তখনই ভারত তাকে হত্যার নীল নকশা শুরু করে। আজ জিয়াউর রহমান নেই। শেখ হাসিনা তালপট্রি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন। ডিজিএফআই, এনএসআই অফিসে ‘র’ এর এক্সেস দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি, শিক্ষানীতি, সামাজিকনীতি, অর্থনীতিসহ জিয়াউর রহমানের গড়া প্রায় প্রতিটা প্রতিষ্ঠান তিলে তিলে ধ্বংস করেছেন। তারপরেও গাফ্ফার চৌধুরীদের মন ভরেনি। জীবিত জিয়াউর রহমানের সাথে তারা পারেননি। আর তাই তারা এখন মৃত জিয়াউর রহমানের লাশের পেছনে লেগেছেন। জিয়াউর রহমানের কবরে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই বলে মিথ্যা অপপ্রচার করছেন। জিয়া উদ্যান থেকে, রাস্তার নামফলক থেকে জিয়াউর রহমানকে সরাতে চাইছেন। এত করেও কী তারা দেশের মানুষের মন থেকে জিয়াউর রহমানকে মুছে ফেলতে পারবেন? বক্তৃতার শুরুতে বিসমিল্লাহর উচ্চারণ বন্ধ করতে পারবেন?
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি ইতিহাস ও ইতিহাসের অধ্যায়। জিয়া একটি প্রতিষ্ঠান। জিয়া একটি বৈপ্লবিক চেতনা। জিয়া একটি রাজনৈতিক দর্শন। আজ তার কর্ম জাতির সামনে যেভাবে তুলে ধরার কথা, সেভাবে তুলে ধরা হচ্ছেনা বলেই বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী জনগোষ্ঠী হাজার হাজার গুম খুনের শিকার হচেছ, বাংলাদেশের পুরো বাজার ভারতের দখলে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ভারত ধ্বংস করে দিয়েছে, বাংলাদেশের প্রশাসন, পুলিশ, বিচারবিভাগ, পররাষ্ট্র আজ ভারতের নিয়ন্ত্রণে, এমনকি বাংলাদেশের মানচিত্র ও ভূমির প্রতিটি ইঞ্চিও ভারতের কব্জায়। কিন্তু কেউই কোন উচ্চ বাক্য করছেন না। বরং ভারতের করুনার দিকে তাকিয়ে অপমানিত করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। জিয়াউর রহমান আজ শেখ হাসিনা, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গংদের দ্বারা বিতর্কিত এবং ভারতীয় চক্রান্তে আওয়ামী জাতীয় শত্রুদের দ্বারা নির্বাসিত। এরপরেও বাংলাদেশি জাতি এখনো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রেরণায় তাকিয়ে আছে মাথা উচু করে নেহেরু ডকট্রিন বাস্তবায়নে লিপ্ত ভারতীয় দালাল রাজনৈতিক নেতা ও শক্তিগুলোকে পরাভূত করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে। জাতি তাকিয়ে আছে একজন জিয়ার অপেক্ষায়। সেদিন হয়তো খুব বেশি দুরে নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বাংলাদেশের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে শিকাগো সিটি কর্তৃপক্ষ সর্বপ্রথম একটি সড়কের নামকরণ করেছিলেন। এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শিকাগোতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনির চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় হেরে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান নিজে শিকাগো গিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত আগের রায়ই বহাল রেখেছিলেন এবং মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিকাগোর ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার এমিরেটস ও সিটি কাউন্সিলর অ্যালডারম্যান জো মোর বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি বেশ রুক্ষ ও উত্থান-পতনের। রাজনৈতিক সব পক্ষই বিভিন্ন অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত। মোটের উপর বিচার-বিবেচনা করে আমার কাছে জিয়াউর রহমানকে ভালো মানুষের একজনই মনে হয়েছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক মানের নেতা হিসেবেই শিকাগো সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানিত করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা দুঃখজনক। দেশটির সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় একটি গণতান্ত্রিক দলকে তাদের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহতের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এটা সত্যিই দুঃখজনক। একটি স্বাধীন দেশের জন্য বিষয়টি মঙ্গলজনক নয়।’
বি: দ্র:- জাস্টিস শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মোহাম্মদ এ আরাফাত, বিপ্লব বড়ুয়া, সেলিম মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, শামীম চৌধুরী, প্রদীপ রঞ্জন কর, মঞ্জুর চৌধুরী, মোহাম্মদ বখতিয়ার, এম এ করিম জাহাঙ্গীর, জালাল উদ্দিন জলিল, টি মোল্লা, রুমানা আক্তার, শহিদুল ইসলাম ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা এবং আরও যারা প্রতিহিংসাবশত মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমুর শহরের ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অপসারণ করিয়েছেন তারা জিয়াউর রহমানকে ছোট করতে গিয়ে বাংলাদেশকে ছোট করেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে ছোট করেছেন। তার বদলে তারা যদি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আরেকটি সড়কের নামকরণের দাবি করতেন ভালো করতেন। এই অপকর্মের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে তারা বাংলাদেশিদের কলঙ্কিত করলেন। ইতিহাসে এক ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

