শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

যোগ্যতা নয়, ‘অবাঙালি হলেই মিলবে চাকরি’, মারলিন গ্রুপকে আইনি নোটিশ বাংলাপক্ষের

স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : বাঙালিকে চাকরিতে নেব না বলায় লিগ্যাল নোটিশ দিল বাংলা পক্ষ। এর আগে বহু সংস্থার এমন কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের অফিসে হানা দিয়েছে এই সংগঠন। কখনওবা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ ধরিয়েছে। এবারও এমন কিছুই করল তারা। মারলিন গ্রুপকে তারা আইনি নোটিশ ধরাল।

সম্প্রতি এই সংস্থার পক্ষ থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে জানানো হয় তাদের বিভিন্ন পদের নিয়োগ হবে। সংস্থার এইচ.আর এর পক্ষে যে তথ্য দেওয়া হয় সেখানে স্পষ্ট লিখে দেওয়া হয় অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের একজন অবাঙালিকে নেওয়া হবে। পদ খালি রয়েছে দুটি। এটাই ভালো ভাবে নিচ্ছে না বাংলা পক্ষ। তাদের দাবী, ‘এই একজন অবাঙালীর কেন প্রয়োজন পড়বে? কাজ দেখে নিয়োগ হওয়া উচিত্‍। কে বাঙালি কে নয় তার বিচারে কীভাবে কোনও সংস্থায় নিয়োগ হতে পারে?’ এও দাবী করছেন, ‘ওই একটি পদে একজন বাঙালির চাকরিও হতে পারত। সংস্থা আগেই তাদের প্রয়োজনের তালিকায় অবাঙালি প্রয়োজন লিখে দিয়ে একজন বাঙালির ভাত মারলেন।’

বাংলা পক্ষ জানাচ্ছে, ‘এরকম হাজারও সংস্থা বাংলায় ব্যবসা করে বাঙালিদের বিরুদ্ধচারন করছে। এর বিরুদ্ধেই বাংলা পক্ষ বারবার প্রতিবাদ করে। বাংলায় ব্যবসা করে বাঙালিকে চাকরি দেবে না? ওরা জানে না হয়ত বাংলা পক্ষ আছে বাংলায়। বাঙালিকে চাকরিতে নেওয়া হবে না বলেছিল মারলিন প্রোজেক্ট। তাই দেওয়া হল লিগ্যাল নোটিশ।’

জি ফাইভের ওয়েব সিরিজে দেশের ক্ষুদিরাম অপমান করা নিয়ে তোলপাড় হয় ইন্টারনেট দুনিয়া। এই ঘটনার জন্য জি ফাইভ কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেয় বাংলাপক্ষ। এছাড়া জি-এর সল্টলেকের অফিসে প্রতিবাদ জানায় বাংলাপক্ষের কর্মকর্তারা।

জি ফাইভের অনলাইন প্লাটফর্মে সম্প্রচারিত ওয়েব সিরিজ ‘অভয়’। যার দ্বিতীয় সিজনের দ্বিতীয় পর্বের একটি দৃশ্যে একটি বোর্ডে সমস্ত কুখ্যাত দাগী আসামিদের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। আর সেই বোর্ডে দাগী আসামিদের মাঝে দেখতে পাওয়া যায় এক স্বাধীনতা সংগ্রামীকে। যিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই বাংলার গর্ব, বাংলার যোদ্ধা ক্ষুদিরাম বসু কিনা শেষে স্থান পেলেন আসামিদের মাঝে? এই ঘটনা সামনে আসতেই জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ এবং এই সিরিজের পরিচালক কে.এন. ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠে বাংলা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে আসে বাংলাপক্ষ।

বাংলাপক্ষ সোশ্যাল মাধ্যমে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। এরপর চাপে পড়ে তারা ক্ষমাও চেয়ে নেয়। বাংলা পক্ষ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, ‘এই ঘটনা ক্ষুদিরাম বসুর বলিদানকে ছোট করছে এমনকি তাঁর সম্মানকেও ক্ষুণ্ন করছিল। শুধু তাই নয় একটা গোটা জাতির বিরুদ্ধেও বিদ্বেষ উগড়ে দিয়েছিল এই ওয়েব সিরিজ। তাই এই ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরা আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে বাংলার বিভিন্ন থানায়। বাংলা পক্ষর তরফ থেকে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালক কেএন ঘোষকে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *