শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

রোহিঙ্গা গণহত্যা : তদন্তের সুযোগ দিচ্ছে না মিয়ানমার

আরাকান নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত গণহত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধিদের মিয়ানমার সরকার দেশটিতে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির চিফ প্রসিকিউটর করিম এ খান। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলমান মামলাটি খুব জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মামলার ট্রায়াল কবে শেষ হবে তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাবে না। আমি ইউক্রেনের অমানবিক ঘটনারও তদন্ত করছি। ইউক্রেনের মামলার সাথে রোহিঙ্গা মামলার পার্থক্য হচ্ছে যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য আমি ইউক্রেন যেতে পারছি। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। সে দেশের সরকারের অনুমতি পাচ্ছি না।’

করিম এ খান বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার মতো অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন কারা ঘটিয়েছে এবং কাদের নির্দেশে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য কাজ করছি। আমি আশাবাদী যে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।’

করিম এ খান কক্সকাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যে গণহত্যার অভিযোগ, তা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নিতে কক্সবাজারে যান তিনি।

গণহত্যার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে সামনের বছর আবারো বাংলাদেশে আসবেন বলে রোহিঙ্গাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

করিম এ খান বলেন, ‘বিশ্বে যা-ই ঘটুক না কেনো বিশ্ববাসী রোহিঙ্গা সঙ্কট ভুলে যেতে পারে না।’

রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্তে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসে তিনি জানান, কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় তিনি রোহিঙ্গা যুব গোষ্ঠীর সাথে আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। তরুণেরা কিভাবে ন্যায়বিচার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে পারেন তা তিনি বিবেচনা করছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা নারীদের সাথেও কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আর্থিক তহবিলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার কারণে গত মার্চ থেকে তাদের দু’বেলা খেতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের খাবার কমিয়ে দেয়ায় তারা অনেক কষ্টে আছেন। এজন্য বিশ্ববাসীর আরো সমর্থন জরুরি।’

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যায়ের পতাকা ধরে রেখেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মামলার শুনানি একসাথে চলতে পারে। দু’টা দুই বিষয়।’ এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব মামলা নিষ্পত্তির জন্য আইসিসির প্রচেষ্টা আশা করেন।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) আইসিসির প্রসিকিউটরকে তিনি বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মামলাটি শেষ করার জন্য আপনার প্রচেষ্টা করা উচিত। বিলম্বে বিচার মানে বিচারের নামে প্রহসন।’

২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। সূত্র : ডয়চে ভেলে

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *