শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

শহর থেকে জেলা-পশ্চিমবঙ্গে সর্বত্র করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি!

নতুন বছর যেন এখন পর্যন্ত খুব খারাপ কাটছে না জনতার। করোনাবিদ্ধ একটা বছর পেরিয়ে নতুন বছর এখন ফের সুস্থ সময়ের অপেক্ষা মানুষ। গোটা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাতেও করোনা পরিস্থিতির দারুণ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগেও যেখানে দৈনিক করোনা সংক্রমণ হচ্ছিল তিন হাজারের কাছাকাছি, সেখানে নতুন বছরের ষষ্ঠ দিনে তা নেমে এসেছে ৮০০-র ঘরে। যদিও গত সোমবার অন্যান্য দিনের তুলনায় টেস্ট কম হয়েছিল, ফলে আক্রান্তের সংখ্যা নেমেছিল পাঁচশোর ঘরে। টেস্ট অনেকটা বেড়েছে গত দু’দিনে। কিন্তু তাতেও বাড়লেও বাংলা যে করোনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, তা খুবই স্পষ্ট।

বুধবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪, ১১৬ টেস্ট করে পজিটিভ রোগীর সন্ধান মিলেছে ৮৬৮। ফলে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৫২। যদিও তাঁদের মধ্যে ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫২১ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে বর্তমানে বাংলায় অ্যাক্টিভ করোনা আক্রান্ত মাত্র ৮, ৮৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১,২৭১ জন। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট সন্তোষজনক হলেও এখনও দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে রয়েছে করোনায় মৃত্যু! গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন করোনা কামড়ে। মৃত্যু সংখ্যা অনেক কমলেও পুরোপুরি তাতে বাঁধ দেওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় ৬ জন করে, নদীয়ায় ৩ জন, হাওড়া ও পূর্ব বর্ধমানে ২ জন করে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১ জন করে মারা গিয়েছেন। তবে, রবিবারই ভারতে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক ও নিয়ামক সংস্থার অধীন সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটির সুপারিশ মেনে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড ও দেশীয় টিকা কোভ্যাক্সিনে ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে। আর মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জানিয়ে দিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে ১৩ জানুয়ারি থেকে দেশে শুরু হচ্ছে করোনার টিকাকরণ। ফলে সুসময়ের অপেক্ষা গোটা ভারত।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসেছিল স্টেট লেভেল কমিটি। মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সব জেলাশাসক, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী এবং টিকাকরণ শাখার আধিকারিকরা। রাজ্যের ভ্যাকসিন কোল্ড চেন, ৯৩০টি কোল্ড স্টোর পয়েন্ট ইত্যাদির পাশাপাশি লজিস্টিক ও লোকবল সংক্রান্ত আলোচনাই ছিল মুখ্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে মঙ্গলবার দাবি করা হয়েছে, জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের অনুমোদনের ১০ দিনের মধ্যেই টিকা উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পরিকাঠামোও তৈরি। তাই এই পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাকরণ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *