কলকাতা : বিজেপি নেমেছে গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলনে। তাদের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ নামল ‘বাংলা বাঁচাও’ আন্দোলনে। তাদের দাবী , বাংলা জুড়ে এক ভয়াবহ সন্ত্রাস,তোষণ ও অপশাসনের আবহ তৈরি হয়েছে। দিকে দিকে বেড়েই চলেছে নারী নির্যাতন এর মতো ঘটনা। আর এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যই তাদের এই আন্দোলন।
তারা জানাচ্ছে, ‘গোটা বাংলা জুড়ে আজ ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ভয়াবহ সন্ত্রাসের আবহ তৈরি হয়েছে। বিরোধী ছাত্র সংগঠন করার অপরাধে একাধিক এবিভিপি কার্যকর্তাকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত হতে হয়েছে। একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হতে হয়েছে অনেক সাধারণ মানুষকে। ফলতঃ তৃণমূলের দশ বছরে শাসনে বাংলার মানুষের প্রাপ্তি শুধুই শূন্য। তাই এবার সময় এসেছে এর বিরুদ্ধে মিলিতভাবে গর্জে উঠে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে তৃণমূলের মতো এই স্বৈরাচারী হিটলারি শাসকদলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। আর এই বাংলা বাঁচানোর লড়াইয়ে মুখ্যভাবে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে ছাত্র যুব সমাজকে। কারণ বাংলা বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি যে ছাত্রসমাজের হাতেই রয়েছে।’
গেরুয়া ছাত্র সংগঠন জানিয়েছে, বাংলা বাঁচাতে মাটিতে নেমে লড়াই শুরু করবে তারা। আর সেই লড়াই শুরু হবে আজ থেকেই। তাদের ‘বাংলা বাঁচাও’ আন্দোলনের মূল ছয় ইস্যু, ১. সুরক্ষিত নারী সুরক্ষিত বাংলা। ২. ভিক্ষা নয় শিক্ষা চাই , কর্মসংস্থানের সুযোগ চাই। ৩. সন্ত্রাস নয় শান্তি চাই , গণতান্ত্রিক অধিকার চাই। ৪. অবিলম্বে মুসলিম তোষণ বন্ধ করতে হবে। ৫. অবিলম্বে শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতি ও ৬. রোজগার কেন্দ্রিক শিক্ষা চাই।
এবিভিপির রাষ্ট্রীয় সম্পাদক সপ্তর্ষি সরকার জানাচ্ছেন, ‘এই বাংলা আজ নিত্যনৈমিত্তিক ধর্ষণ ও নির্যাতনে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। শিশু, কন্যা থেকে বৃদ্ধা কেউ ছাড় পাচ্ছে না। একের পর এক লুন্ঠিত হচ্ছে মহিলাদের সম্মান। পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, কাকদ্বীপ, জি ডি বিড়লা, এম পি বিড়লা, বীরভূম,নদীয়া, ভাটপাড়া, বাগনান, চোপড়া, ভদ্রেশ্বরের মতো হাজরো জায়গায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ। যে বাংলায় মা দুর্গাকে শক্তি রূপে পূজা করা হয়, মা সরস্বতী কে জ্ঞানের দেবী রূপে পূজা করা হয় সে বাংলায় নারীদের এ কি পরিস্থিতি! NATIONAL CRIME RECORD BUREAU REPORT অনুসারে ২০১৬ সালে ৩০ হাজারের ওপরে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে রুজু হয়েছে। যা বাংলাকে ভারতবর্ষের মধ্যে নারী নির্যাতনে সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থান পাইয়ে দিয়েছে।এটি গোটা বাংলার জন্য লজ্জাজনক বিষয় এবং উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রতিটি কেসের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তৃণমূল নেতাদের হাত রয়েছে। তাই,ছাত্রীসমাজের জন্য নারী সুরক্ষার বিষয় আমাদের “বাংলা বাঁচাও” আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ইস্যু।’
এবিভিপি উত্তরবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক বিরাজ বিশ্বাস জানাচ্ছেন , ‘রাজ্যে শিক্ষার হালও অত্যন্ত বেহাল।তাই, উন্নততর শিক্ষার দাবি করে আমাদেরকে সরব হতে হবে। NEP পশ্চিমবঙ্গে লাগু করণের মাধ্যম দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রোজগার কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এছাড়া বেকারত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বেশ কয়েক বছর ধরে SSC ও টেট পরীক্ষা বন্ধ। যারফলে বেকারত্বের সংখ্যাটা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। তাই বিদ্যার্থী পরিষদ “বাংলা বাঁচানোর” লড়াইয়ে কর্মসংস্থানের দাবিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর সাথে রয়েছে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বেড়ে চলা লাগামছাড়া তোষণ। যা আমাদেরকে ছাত্র যুব সমাজের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং তাদের মধ্যে জাগরণ ঘটাতে হবে।’
এবিভিপি দক্ষিণবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার জানাচ্ছেন , ‘একসময় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ ছাত্র যুবরা পরিবর্তনে আশায় সিপিএমকে সরিয়ে ভালো কিছুর আশায় বাংলাতে পরিবর্তন করেছিল। কিন্তু আমরা কি দেখলাম? যারা পরিবর্তনের আগে লাল জামা পরেছিল, তারাই পরে সবুজ জামা পরে সন্ত্রাস চালিয়ে যেতে শুরু করল। কর্মসংস্থানের অভাব, নারী নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাস, লাগাতার তোষণের ফলে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে আমাদের সকলকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে পথে-প্রান্তরে, গ্রামে গ্রামে গিয়ে জন জাগরণ গড়ে তুলতে হবে। তাই চারিদিকে অন্যায় ও অপশাসন রুখতে এবিভিপি যে রাজ্যজুড়ে “বাংলা বাঁচাও” আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তার সূচনা জেলার প্রতিটি ইউনিটে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ভাষা শহীদ রাজেশ ও তাপস স্মরণে “বাংলা ভাষা দিবস” বড় সংখ্যায় পালন করার মধ্য দিয়ে হবে।’

