সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে জামাল ভূঁইয়ারা জয় পেয়েছে ১-০ গোলে।
বেশ কয়েকটি জোরাল আক্রমণ করলেও গোলশূন্যভাবেই ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিট অতিবাহিত হতে না হতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা। সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন তপু বর্মণ। এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
জেমি ডেকে সরিয়ে তাঁকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে যেদিন নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), সেদিন থেকেই সাফে বাংলাদেশের কাছ থেকে পাসিং ফুটবল দেখার আশা ছিল সবার। কিন্তু মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে আশা সেভাবে পূরণ আর হলো কই! ত্রিভুজ গড়ে দু-তিনটি পাসে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা মাঝেমধ্যে দেখা গেছে বটে। কিন্তু তুলনামূলক দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবলটা আর যা-ই হোক, মন ভরানোর মতো হয়নি।
ভারত, মালদ্বীপ ও নেপালের বিপক্ষে এর পরের ম্যাচ তিনটি বাংলাদেশের আরও কঠিন পরীক্ষা নেবে নিশ্চিত, সে পরীক্ষাগুলোর আগে পয়েন্টের দিক থেকে অন্তত জ্বালানিটা ভরে নিয়েছেন জামাল-তপুরা।
ব্রুজোনের অধীন গত কয়েক দিনে বল পায়ে রেখে পাসিং ফুটবলের অনুশীলনই বাংলাদেশ বেশি করেছে। কিন্তু মাঠে আজ দাপট বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে গিয়ে শেষ পাসের বেলায় ভজকট পেকে গেছে বাংলাদেশের। কখনো পাসের গতি বেশি বা কম ছিল তো কখনো যাঁর উদ্দেশে পাস, তাঁর দৌড়ের সময় কিংবা দিক ঠিক ছিল না। আর কখনো ঠিকঠাক হয়নি পাস ছাড়ার সময়!
পরিসংখ্যান বলবে, বাংলাদেশ ৫৮ শতাংশ বলের দখল রেখেছে। ২০টি শট নিয়েছে, যার ৪টি শ্রীলঙ্কার পোস্টে ছিল। কিন্তু ম্যাচের গল্প বলবে, বাংলাদেশ গোল করতে পারে, এমন সম্ভাবনাই জেগেছে হাতে গোনা দু-একবার।
জেমি ডের অধীন বাংলাদেশ রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশলে খেলত, ব্রুজোন বল পায়ে রেখে আক্রমণে ওঠার কৌশলে বিশ্বাসী। সে কারণে আজ ব্রুজোনের একাদশ কেমন হয়, সেটি দেখার রোমাঞ্চ ছিল। মিডফিল্ডার সোহেল রানা জ্বরে আক্রান্ত বলে খেলতে পারেননি। তাঁকে পেলে ব্রুজোন কীভাবে দল সাজান, সেটি পরে দেখার আগ্রহ থাকবে। তবে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪-১-৪-১ ছকে দল সাজিয়েছেন বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ।

