কমিউনিটি নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মেজর (অব.) এম খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি হামজাহ জাইনুদীনের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার ‘দ্য স্টার ডটকম’ জানায়, তিনি (মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) প্রাক্তন কূটনীতিকের গ্রেফতারের বিষয়ে অবগত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে (এম খায়রুজ্জামান) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মেজর (অব.) খায়রুজ্জামানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার দ্য স্টার ডটকমের খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন হাইকমিশনারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছেন।
গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার আমপাং, সেলাঙ্গর নামক এলাকার ১১ ব্লক বি ২-এর ৭ নম্বর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।
মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সময়কালে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, খায়রুজ্জামান কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআর-এর কাছে যান এবং মালয়েশিয়ায় তার অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি পরিচয়পত্র পান। এরপর থেকে তিনি উদ্বাস্তু (UNHCR কার্ড নং 354-10C02267) হিসেবে বসবাস করছিলেন।
তার বিরুদ্ধে কারাগারে নিহত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
যদিও ঢাকার একটি বিচারিক আদালত ২০০৪ সালে খায়রুজ্জামানকে খালাস দেন।
জেল হত্যার পর খায়রুজ্জামানকে সেনাবাহিনী থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি ১৯৭৬-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর অবসরে পাঠানো হয়। গ্রেফতার ও অবসর গ্রহণের আগে তিনি ম্যানিলায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০০১ সালের অক্টোবরের শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই খায়রুজ্জামান জামিনে মুক্তি পান এবং ২০০৩ সালের ৪ মে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসাবে পুনর্বহাল করা হয়।
খায়রুজ্জামানের সাথে বিএনপি নেতা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং নুরুল ইসলাম মঞ্জুরকে ২০০৪ সালে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেল হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
খালাস পাওয়ার পর খায়রুজ্জামান অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এরপর তিনি মায়ানমারে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন এবং ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
তারপর আবার তিনি ২০০৭ সালের আগস্টে পূর্ণাঙ্গ সচিব পদে উন্নীত হন এবং প্রথম শ্রেণীর রাষ্ট্রদূতের পদমর্যাদা ও মর্যাদাসহ মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর দেশে ফিরে আসার ঝুঁকি না নিয়ে খায়রুজ্জামান কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ড পান এবং সেখানেই থেকে যান।

