শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

সাহস থাকলে পরমানন্দ রাজবংশী এবং বর্তমান সরকার আসামের বরাকে প্রাথমিক স্তরে অসমীয়া ভাষা বাধ্যতামূলক করে দেখান: চ্যালেঞ্জ ছুড়ল বিডিএফ

আসাম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক পরমানন্দ রাজবংশী সাম্প্রতিক বরাক সফরে এসে বলেছেন যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে বরাক উপত্যকায় প্রাথমিক স্তরে ৫০ মার্কসের বাংলার সাথে ৫০ মার্কসের অসমীয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এই মর্মে বিধানসভায় আইন পাস হয়েছে। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এক রেকর্ডেড প্রেসবার্তায় বিডিএফ এর মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে আমরা পরমানন্দ রাজবংশী তথা তার সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি যে সাহস থাকলে তাঁরা এটা করে দেখান। বিডিএফ তথা অসমের বরাকের মানুষ কোন অবস্থায় এইধরনের পদক্ষেপ মেনে নেবেন না। তিনি বলেন যে আমরা আশ্চর্য হচ্ছি যে এর আগে ১৯৬১,১৯৭২ ও ১৯৮৫ তে তিনবার একই চেষ্টা করে ব্যর্থ হবার পরও দিশপুরের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের হুঁশ ফেরেনি। আবারও তাঁরা একই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রদীপ বাবু বলেন যে অসমের বরাকের জনগণ কখনই ৬১ বা ৮৫ এর ভাষা শহীদদের কথা ভুলে যাবেন না। তাই পরমানন্দরা এইসব অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন অন্যথা বরাকে আবার আগুন জ্বলবে। প্রদীপ বাবু আরো বলেন যে এই উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ভুলে যান যে এইভাবে জোর করে ভাষিক আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেবার চেস্টার জন্যই আসাম থেকে বেরিয়ে গেছে মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ। এবং এরপরও যে আসাম অবশিষ্ট ছিল তাও আজ নেই। বোড়োল্যান্ড এতে সর্বশেষ সংযোজন যাদের পৃথক ভাষিক এবং রাজনৈতিক অধিকারকে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে দিশপুরের সরকার।

প্রদীপ বাবু বলেন আসু নেতা প্রফুল্ল মোহান্ত, ভৃগু ফুকনরা গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত তত্‍কালীন বোড়ো স্টুডেন্ডস ইউনিয়নের নেতা উপেন ব্রহ্মকে শারীরিক নিগ্রহ না করলে হয়তো আজকের বোড়োল্যান্ডের জন্মই হতনা।এসবই তাদের ভাষিক আগ্রাসনের কুফল। বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক আরো বলেন যে বর্তমান সরকারের আমলে ভাষিক আগ্রাসনের চক্রান্ত ক্রমবর্ধমান। ইদানীং কোর্টের কেরানী এবং নকল নবিশের নিয়োগ পরীক্ষায় ৫০ মার্কস এর অসমীয়া পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গৌহাটি হাইকোর্ট।

প্রদীপ বাবু বলেন যে আমাদের প্রশ্ন যে গৌহাটি হাইকোর্ট কি ১৯৬১ এর ভাষা আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন ? তাঁরা কি জানেন না যে বরাকের সরকারি ভাষা বাংলা ?যেহেতু এখানে অসমীয়া ঐচ্ছিক বিষয় তাই এইভাবে পরীক্ষা হলে অবধারিত ভাবে পিছিয়ে পড়বেন বরাকের প্রার্থীরা । প্রদীপ বাবু আরো বলেন পরমানন্দ রাজবংশী যখন এসব বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তখন তার পাশে ছিলেন শিলচরের বিজেপি বিধায়ক। তিনি বা বরাকের তার দলের নেতারা এসব নিয়ে এখনো টু শব্দটি করেননি। তিনি বলেন আমরা আশা করি আগামীতে এইসব মেরুদন্ডহীন নেতাদের যোগ্য জবাব দেবেন বরাকের জনগণ। বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক আরো বলেন যে বরাকের অধিকাংশ লোক অসমিয়া লিখতে পড়তে জানেন, অসমীয়া কৃষ্টি সংস্কৃতিকে সম্মান করেন। একইভাবে এই উপত্যকার বিভিন্ন ভাষিক জনগোষ্ঠী একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সদ্ভাব রয়েছে। কিন্তু এই সরকার বরাকের বাঙালি ও অন্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন ও বিভেদ সৃষ্টি করার ঘৃন্য চক্রান্ত শুরু করছেন।

তিনি বলেন এসব অপচেষ্টাকে প্রতিহত করার ব্যাপারে বিডিএফ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল ও থাকবে কারণ আমরা বিভেদ নয় ঐক্যে বিশ্বাসী। বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *