শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

সীমান্তে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশী হত্যার পক্ষে সাফাই গাইলেন বিএসএফ ডিজি পঙ্কজ কুমার সিং

অপরাধ করলে বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। আইনকে পাত্তা না দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধান পঙ্কজ কুমার সিং বাংলাদেশীদের খুন করার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে যারা মারা যায় তারা অপরাধী। কিন্তু অপরাধীকে এভাবে গুলি করে হত্যার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক কোন আইনে নেই। অপরাধ করলে বা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলে আইনের আওতায় আদালতে বিচার হতে পারে। কিন্তু গুলি করার এখতিয়ার নেই। অথচ, বিএসএফ প্রধান খুন করার পক্ষে সাফাই গেয়ে বরং খুনে উৎসাহ যোগালেন তাঁর বাহিনীর সদস্যদের।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেন বিএসএফ মহাপরিচালক।

নিহত বাংলাদেশীদেরকে অপরাধী বলার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ মহাপরিচালককে প্রশ্ন করা হয়, ‘সীমান্তে হত্যার শিকার ব্যক্তিদের কিসের ভিত্তিতে অপরাধী বলছেন। তাঁদের শরীরের ওপরের অংশে গুলি লাগার পরও কেন এটা টার্গেটেড কিলিং নয়?’

জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক নিজ বাহিনীর খুনীদের সাফাই গেয়ে বলেন, তাঁদের (বাংলাদেশী) কারণে সীমান্তে অপরাধ সংগঠিত হয়। তাঁদের কারণেই চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটছে। বিএসএফ মহাপরিচালক অভিযোগ করেন, গরু পাচার, শিশু ও নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেন।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলি, কলকাতা পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান প্রদান করি। দুই দেশের সীমান্তে চোরাকারবারে জড়িত মাফিয়ারা।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে থাকা বাংলাদেশীদের সম্পর্কে বিএসএফ মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রথমে আমরা নন লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করি। যাতে প্রতিরোধে মরণঘাতী না হয়। ৮৯ বিএসএফ সদস্য সীমান্তে অপরাধীদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন।

প্রতিবার সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধে আলোচনা হয়। কিন্তু সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। গত জুন মাসে সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন পাঁচজন। এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, এ প্রশ্ন প্রতিবছরই শুনতে হয়। বিজিবি ও বিএসএফ খুবই পেশাদার বাহিনী। তবে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভিন্ন। পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়েও আলাদা। আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করে থাকি, কীভাবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা যায়।

উল্লেখ্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) টার্গেট গুলিতে ২০১০ সালে কিশোরী ফেলানীর নির্মম মৃত্যুর কথা কোনোদিন ভুলবেন না বাংলাদেশের মানুষ। ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ কলনিটারী গ্রামের ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী। হত্যার পর তাঁর লাশ কাঁটাতারে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল দীর্ঘ সময়।

কাঁটাতারে ঝুলন্ত কিশোরী ফেলানীর লাশ আলোড়ন তুলেছিল দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে। ফেলানীর মতোই স্বাধীনতার পর থেকে অনেক নিরীহ বাংলাদেশীকে সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় বিএসএফ। সূত্র: আমার দেশ

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *