শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

স্ত্রীর সম্পত্তির হিসাবে অসঙ্গতি, কাঠগড়ায় ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী

স্ত্রী ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হিসাব সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করার অভিযোগ উঠেছে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনকের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে অসঙ্গতি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদপত্র। এ ঘটনার জেরে অস্বচ্ছতার অভিযোগে অভিযুক্ত ইনফোসিস কর্মকর্তা নারায়ণ মূর্তির জামাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি।

২০০৯ সালে নারায়ণ মূর্তির মেয়ে অক্ষতা মূর্তির সঙ্গে বিয়ে হয় ঋষির। ইনফোসিসের পরিচালকমণ্ডলীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অক্ষতা। বাবার সংস্থায় কমপক্ষে ৪৩ কোটি পাউন্ডের শেয়ার রয়েছে তার।

সেই সূত্রে ব্রিটেনের অন্যতম সম্পদশালী নারী তিনি। অথচ সংবাদপত্রটির দাবি, ঋষির জমা দেওয়া তথ্য বলছে, ব্রিটেনে শুধু একটি ছোটো বাণিজ্যিক সংস্থা চালান অক্ষতা!

আইন অনুসারে নিজের পাশাপাশি নিকট-আত্মীয়দের আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে উল্লেখ করতে হয় ব্রিটেনের সকল মন্ত্রীকে।

আত্মীয়দের তালিকায়, বাবা-মা, ভাই-বোনের পাশাপাশি মন্ত্রীদের জীবনসঙ্গী এবং তার পরিবারের সম্পত্তির খতিয়ানও জমা দেওয়া প্রয়োজন সরকারের কাছে।

মন্ত্রী বা তার সম্পর্কিতদের কারো আর্থিক লেনদেনের সূত্রে উদ্ভূত কোনো সমস্যার জেরে নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

তবে ঋষির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শুধু স্ত্রী ছাড়া পরিবারের বাকি কারো সম্পত্তির খতিয়ান জমা দেননি এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ তথ্য দেননি।

মার্কিন সংবাদপত্রটির নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, ঋষির স্ত্রী এবং তার পরিবারের কাছে ইনফোসিসের বিপুল অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। যার সামগ্রিক পরিমাণ ১৭০ কোটি পাউন্ডের কাছাকাছি।

শুধু ব্রিটেনে ওই সংস্থাটিতে কাজ করেন কয়েক হাজার মানুষ। সরকার এবং একাধিক নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে চুক্তিবদ্ধভাবে কাজ করেছে সংস্থাটি। তবে এর কিছুই নাকি উল্লেখ করেননি ঋষি।

এছাড়া, অ্যামাজ়ন এবং মূর্তিদের এক লগ্নিকারী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ভারতে ৯০ কোটি পাউন্ডের একটি কর্মকাণ্ড রয়েছে। ‘জেমি অলিভার’ এবং ‘ওয়েন্ডি’জ বার্গার’ ভারতে যারা চালায় ব্রিটেনের সেই সংস্থাটিতেও অক্ষতার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়াও ব্রিটেনের আরও পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত। কিন্তু এসব উল্লেখ করা হয়নি।

অথচ সংস্থাগুলোতে তিনি পরিচালক পদে রয়েছেন কিংবা সরাসরি সেখানকার শেয়ারহোল্ডার হিসেবে। সেই তালিকায় অন্যতম ইটন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য টেলকোট প্রস্তুতকারী এক সংস্থা।

তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংবাদপত্রটির তোলা অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ঋষি সুনকের। মেলেনি অক্ষতা মূর্তির বয়ানও।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *