শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ২৪, ২০২৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিজ্ঞপ্তিতে ভুলের পর ভুল

ভুলে ভরা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিদিন করোনাভাইরাস বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরাসরি বুলেটিন প্রচার বন্ধ হওয়ার পর ১২ আগস্ট থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই গণমাধ্যমকে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে গত কয়েক দিনের বিজ্ঞপ্তিতে সংখ্যাগত বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ করা গেছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরকে অবহিত করা হলেও তা সংশোধন করা হয়নি। বরং ভুলের পরিমাণ বেড়েছে।

মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ ঘণ্টায় মোট সুস্থ হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩ হাজার ২৩৪। সর্বমোট সুস্থ হওয়া রোগীর সঙ্গে এই সংখ্যা যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮২৫ জন। অর্থাৎ মোট সুস্থ এক হাজার কম উল্লেখ করা হয়।

এ ভুলের কারণে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হারেও ভুল হয়। এই ভুল তথ্যই প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরদিন বুধবার সেই ভুল সংশোধন না করেই ত্রুটিপূর্ণ তথ্য হালনাগাদ করা হয়।

এ ব্যাপারে বুধবার সন্ধ্যায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, হিসেবে ভুল করার কারণে এমনটা হয়েছে। পরদিনের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল সংশোধন করে দেওয়া হবে। এ সময় তিনি ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এই প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানান।

কিন্তু পরের দিন বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে গেছে, সেই ভুল সংশোধন করা হয়নি। বরং এদিন আরও অন্তত চারটি হিসেবে নতুন করে ভুল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভাগগুলোতে করোনায় মৃত্যুর হিসেবের ক্ষেত্রে চারটি বিভাগের হিসেবেই ভুল করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও বিভাগটির মোট মৃত্যুর সঙ্গে তা যোগ করা হয়নি। খুলনায় তিনজনের মৃত্যু হলেও মোট সংখ্যায় একজন বেশি যোগ করা হয়েছে। সিলেটে কেউই মারা যায়নি, অথচ মোট সংখ্যায় পাঁচজন যোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন মারা গেলেও মোট সংখ্যায় যোগ করা হয়েছে তিনজন।

এ সব ভুলের বিষয়ে জানতে ডা. নাসিমা সুলতানার ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর শুরুর দিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করে সর্বশেষ তথ্য জানানো হতো। একপর্যায়ে সেই ব্রিফিং অনলাইনে চলে যায়। ৮ এপ্রিল থেকে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ব্রিফিংয়ের নাম বদলে ‘বুলেটিন’ আকারে তথ্য প্রচার চালু রাখা হয়।

চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে তা-ও বন্ধ করে দিয়ে কেবল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে অধিদপ্তর। বুলেটিন প্রচার বন্ধের বিষয়ে গত ১০ আগস্ট অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘এখন থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনা সম্পর্কিত সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাসহ আরো একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারবেন।’

যদিও বর্তমানে অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যোগাযোগের জন্য কারো ফোন নম্বরই সরবরাহ করছে না অধিদপ্তর।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *