শিরোনাম
সোম. ফেব্রু ২৩, ২০২৬

স্বেচ্ছামৃত্যুতে সায় দিলো হাউস অব কমন্স

লণ্ডন, ২৯ নভেম্বর- হাউস অব কমন্সে পাঁচ ঘণ্টার আবেগঘন বিতর্কের পরে ব্রিটিশ এমপিরা ইংল্যান্ড-ওয়েলসে স্বেচ্ছামৃত্যুকে আইনি স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। শুক্রবার এ-সংক্রান্ত বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৩০ জন, বিপক্ষে ২৭৫ জন। এর পরের ধাপে পার্লামেন্টে বিলটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। তার পরে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ, অর্থাৎ, হাউস অব লর্ডসে দ্বিতীয় দফার বিতর্কের পরে সেখানেও অনুমোদন পেয়ে গেলে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে আইনি স্বীকৃতি পাবে স্বেচ্ছামৃত্যু।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় বিতর্ক। প্রথম থেকেই পার্লামেন্টের পরিবেশ ছিল থমথমে। সাধারণত বিতর্কের সময়ে যে রকম চড়া সুরে তর্ক-বিতর্ক হয়, এ দিন তা হয়নি। অনেক এমপি-ই তাদের মৃত্যুপথযাত্রী কোনো আত্মীয়ের কথা বলে বিলের পক্ষে যুক্তি দেন। বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন কেউ।

বিতর্কের শুরু থেকেই ব্রিটিশ এমপিরা স্পষ্ট দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিলেন। পরে দেখা যায়, বিলের দিকেই পাল্লা ভারী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ও টেরেসা মে বিলটির বিরোধিতা করেন। কিন্তু আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সেটির পক্ষে ভোট দেন। স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং-ও বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তবে দু’পক্ষই মেনে নিয়েছেন যে আইন হলে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখতে হবে। না হলে এই আইনের অপব্যবহারের প্রভূত আশঙ্কা রয়েছে।

আপাতত বিলে স্বেচ্ছামৃত্যুতে সায় দেয়ার জন্য যেসব শর্ত রাখা হয়েছে, সেগুলো হলো- (১) যিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করবেন তার বয়স ১৮-র বেশি হতে হবে। (২) তাকে সজ্ঞান ও সচেতন থাকতে হবে। (৩) তার ছয় মাসের বেশি বাঁচার সম্ভাবনা নেই। (৪) তাকে দু’জন চিকিৎসকের কাছে দু’টি পৃথক আবেদন করতে হবে এবং দু’টি আবেদনের মধ্যে অন্তত এক সপ্তাহের ফারাক থাকতে হবে। (৫) মারণ ইঞ্জেকশন রোগীকে নিজে নিতে হবে।

এর আগে ২০০৯ সালে একবার বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেবার বিলটি পাস হয়নি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *