- ১১ জুলাই সাজা ঘোষণা
- সম্পদ হারাচ্ছেন ট্রাম্প
- সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চান ট্রাম্প
লণ্ডন, ০৫ জুন: মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে৷ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দুর্নীতি, অর্থপাচার, শ্রম অধিকারসহ বাকস্বাধীনতার পশ্চাদপসরণ নিয়ে বাইডেন প্রশাসন ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং গত তিন বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে রেব ও এর কয়েক শীর্ষ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা প্রদানকারী যেকাউকে ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণাসহ বেশকিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন৷ এছাড়া সাত জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেয়া বিবৃতিতে বাইডেন প্রশাসন পরিষ্কারভাবেই বলে দিয়েছে যে নির্বাচন ‘অবাধ, বা সুষ্ঠু হয়নি’৷ ফলে বাইডেন প্রশাসনের আমলে অস্বস্তিতে থাকা শেখ হাসিনা রিপাবলিকান পার্টির নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখছিলেন, ট্রাম্পের উপর ভরসা করে যে আশা করছিলেন, সে আশায় গুড়েবালি হয়ে গেছে।
ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি আদালত এ রায় দেন। ওই মামলায় আনা ৩৪টি অভিযোগের সবকটিতে দোষীসাব্যস্ত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা। আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধের জন্য দোষীসাব্যস্ত হলেন। আগামী ১১ জুলাই এ মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দলের পক্ষ থেকে একে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর রায়ের পর ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তার হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ১২ বিচারকের একটি বেঞ্চ। এর আগে তারা রায় নিয়ে ১১ ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেন। এমন সময় এ রায় ঘোষণা করা হলো, যখন কয়েক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট পদে আসতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে রায়ের কারণে তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধা আসবে না। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা তার জন্য মর্যাদাহানিকর। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। খুব শিগগিরই তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। তবে এটাই কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলা নয়। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলছে। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষের পর হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি গোপন নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা আরও একটি মামলা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরছেন তিনি। সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি ও তার দল রিপাবলিকান পার্টি বলে আসছে। বৃহস্পতিবার যে মামলায় রায় দেওয়া হয়, তাতে সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ১১ জুলাই। তাতে তার কারাদণ্ড হতে পারে।
সম্পদ হারাচ্ছেন ট্রাম্প
শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। এতে তিনি বড় অংকের অর্থ লোকসান দেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পদ হারান কাগজে কলমে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার দিন শেষে ট্রাম্প মিডিয়া এ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ারের দাম কমে যায় ৫.৩ শতাংশ। শেয়ারবাজারে যখন লেনদেন শেষ হয়, তখন কোম্পানিতে ট্রাম্পের শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৫৬০ কোটি ডলার। ঠিক এক দিন আগে ওই শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক দিনেই ট্রাম্পের শেয়ারের মূল্যমান কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। সিএনবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প মিডিয়ার ট্রুথ সোশ্যাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গত মার্চে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ফলে ট্রাম্প কাগজে-কলমে কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন। একই সঙ্গে তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বের ধনী ৫০০ ব্যক্তির তালিকায়ও স্থান পান। তবে পাশাপাশি তাকে আদালতে মামলা চালাতে বিপুল অর্থও খরচ করতে হয়। ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম অবশ্য খুব বেশি ওঠানামা করছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট চাইলেই আগামী সেপ্টেম্বরের আগে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। কারণ, এই শেয়ারগুলো লক-আপ চুক্তির বাধ্যবাধকতায় রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইলেন ট্রাম্প
যৌন সম্পর্কের বিষয় গোপন রাখতে দেওয়া ঘুষের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া রায় বাতিল করতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি এ আহ্বান জানান। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির কো-চেয়ার লারা ট্রাম্প সিএনএনকে বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকেরা শান্ত থেকে নভেম্বরে ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি বলেছেন ট্রাম্প জিতলে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে যারা ‘অন্যায়’ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিশোধ নেবেন।

