মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
এর আগে বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভা কক্ষে এই বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এতে অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
১২ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য দেশের সর্ববৃহৎ বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর তৃতীয়, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৩তম এবং দেশের এটি ৫০তম বাজেট।
রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আসছে অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।
নতুন অর্থবছরে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ আর মূল বাজেটের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।
৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল এ বাজেট মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
মহামারি করোনার বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আয়ের দিকে নজর দিচ্ছে। সব মিলিয়ে এ করোনাকালীন আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই মোট আয়ের মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
যার মধ্যে কর খাত থেকে আসবে ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা আর কর ব্যতীত প্রাপ্তি হচ্ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে করের টাকা দুটি খাত থেকে আদায় হবে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত কর ১৬ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৩ লাখ ৪৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

