শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

৪৯ বছর পরও ঠাঁই খুঁজছেন মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডি

অনেক আগেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন নাইকা মার্ডি। স্বাধীনতাযুদ্ধে লাল-সবুজের পতাকা অর্জনে বেশ অবদান ছিল। ফলে তার অর্জন বৃথা যায়নি। এই সহজ সরল মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে।

যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীনের কথা ভেবেছেন। কিন্তু তার নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। তবু ভাবেননি তিনি। স্বাধীনতার অনেক আগ থেকে সরকারি প্রায় চার শতক খাসজমিতে মাটির বাড়ি বানিয়ে স্ত্রী ও চার ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছেন নাইকা মার্ডি। তবে পরে তিনি জানতে পারেন ওই জমি তার নয়।

এহেন পরিস্থিতিতে বিগত ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভূমি অফিসে ধরনা দিয়েও তার বসতবাড়ি নিজের নামে কবিয়ত দলিল করে দেননি কেউ। ফলে এত বছরেও ওই খাস সম্পত্তি পত্তন বা ডিসিআর হয়নি।

সম্প্রতি চার সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ভূমিহীন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডির।

মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডি আক্ষেপ করে বলেন, জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনও করেছি আমরা। সরকারের এ সম্পত্তি বা তার বসতভিটা তিনিই হকদার। কিন্তু তার নামে দলিল করে দিতে কেউ এগিয়ে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সন্তানরা এই বসতভিটায় থাকতে পারবে কিনা জানি না। তিনি বেঁচে থাকতে নিজের নামে এই বসতভিটার দলিল চান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের প্রতিনিধি ও দর্লীয় নেতারা মুক্তিযোদ্ধাদের তেমন কোনো গুরুত্ব দেন না।

এ কারণেই নাইকা মার্ডির মতো দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বসতভিটার জমি নিজের নামে আজও পাননি। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো যুগান্তরকে বলেন, দ্রুত বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে দেখে ওই জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডির নামে বন্দোবস্তের সুব্যবস্থা করা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *