বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেই শেষ হল ভবানীপুর সহ তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। আর এই তিন কেন্দ্র অর্থাত্ ভবানীপুর, সামসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে তৃণমূল জিতবে বলে আশা নেতৃত্বের।
শুধু জেতা নয়, রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধায় সহ বাকি দুই কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীরা জিতবে বলে আশা। ইতিমধ্যে তিন অক্টোবরের জন্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।
ঘাসফুল ঝড়ের কাছে মুছড়ে পড়বে পদ্ম! এমনটাই মত শাসকদলের। তবে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতার মার্জিন কত হবে সেদিকেই নজর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের।
৬০ শতাংশের বেশি ভোট
ভোট শেষ হতেই সাংবাদিকদের বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম। এবার ভোটে ভবানীপুর উপনির্বাচনে গুরু দায়িত্ব ছিল ফিরহাদের উপরেই। যদিও অন্যান্য নেতারা থাকলেও তাঁর উপর দিদি মমতার ভরসাটা একটু বেশীই ছিল। আর সেই জায়গা রাখতে পেরেছেন ফিরহাদ। অন্তত প্রথম ধাপে ভোট বৈতরণী পার হতে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিকমহলের একাংশ। তবে এদিন ফিরহাদ ভালো ভোট হয়েছে বলে জানান। বলেন, উপনির্বাচনে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যা উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট। ফিরহাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুশের মনে রয়েছে। আর তাই মানুষ বেরিয়ে এসে ভোট দিয়েছে।
নন্দীগ্রামের মতো ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল ওরা!
তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোট শুরু হতেই একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকে বিজেপি। ফিরহাদ, সুব্রত সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলে বিজেপি। শুধু তাই নয়, ভুয়ো ভোটার নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থও হয় বিজেপি। তবে ফিরহাদের দাবি, বিজেপি ভেবেছিল ভবানীপুরে নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা ঘটাবে। চেয়েছিল যাতে বৃষ্টি হয় আর মানুষ ভোট দিতে না আসতে পারে। এতে বিজেপির সুবিধা হতো বলে দাবি। কিন্তু আদৌতে ওদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। তাঁর দাবি, কোথাও কোনও রিগিং হয়নি। তবে ভবানীপুরে বিজেপির হারের পর ফুল পাঠাব! কটাক্ষ ফিরহাদ হাকিমের।
ভাবিত নয় মানুষ!
তবে পাল্টা বিজেপির দাবি, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৫৩ শতাংশ ভোট প্রমাণ পড়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন ভবানীপুরের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে দাবি বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্যের। তাঁর মতে, এই নির্বাচনকে একটা উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটের হার প্রমাণ করে দিচ্ছে আদৌতে কিছুই না, দাবি বিজেপি নেতার। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে ভবানীপুরের মানুষ ভাবিত নন বলেও দাবি শমিকের। তবে ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা টিবড়েওয়ালের জয়ের বিষয়েও বিজেপি আত্মবিশ্বাসী বলে দাবি করেন শমীকবাবু।
মার্জিন দেখতে অপেক্ষা
২০১১ এবং ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার এই কেন্দ্র শোভনদেব চট্টপাধ্যায়কে ছেড়ে নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু হারতে হয়। এদিনে ২১ এর নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটে পরাস্ত করেন শোভন দেব চট্টপাধ্যায়। কয়েকটি ওয়ার্ডে ভালো ভাবেই এগিয়েছিল বিজেপি। তবে এবার যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে নেতা -কর্মীদের মতে, রেকর্ড ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬৫ হাজার ৫২০। এবার এই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবেন বলে মত। তবে কত সেটার জন্যে তিন তারিখের জন্যেই অপেক্ষা করতে বলছেন নেতৃত্ব।

