শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ২২, ২০২৬

৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম এবার আদালতে জমা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

কর ফাঁকি ও অর্থপাচারে জড়িত অভিযোগে ৬৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবার আদালতে দাখিল করেছে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বাংলাদেশ ব্যাংক। পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি হলফনামা করে দাখিল করা হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আদালতের আদেশে বিএফআইইউয়ের যুগ্ম পরিচালক খন্দকার আশিফ রাব্বানী আদালতে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন।

আগামী রবিবার এর ওপর শুনানি হবে। বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসা ৬৯ ব্যক্তি-সত্তার মধ্যে পানামা পেপারসে ৪৩ ও প্যারাডাইস পেপারসে ২৬ নাম রয়েছে। ’

বিভিন্ন দেশের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ) এবং এফআইইউগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক ফোরাম ‘এগমন্ট’ থেকে ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিএফআইইউ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে এদের থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়।

২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ডিআরইউয়ের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাঙালি অধ্যুষিত কানাডার কথিত ‘বেগমপাড়া’র প্রসঙ্গ উঠে আসে।

সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর হাইকোর্ট অর্থপাচারকারীদের নাম-ঠিকানা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চান।

এর মধ্যেই বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ দেন।

অর্থসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাণিজ্যসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মসগুলোর পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার ও পুলিশ প্রধানকে হলফনামা করে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।

সেই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা কম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপনে গচ্ছিত টাকা উদ্ধারে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

এ ছাড়া পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশি যেসব নাগরিক ও কম্পানির নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি প্রতি মাসে আদালতকে জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

সেদিন আদালত ৩০ মার্চ পরবর্তী আদেশের তারিখ রাখেন। এ আদেশের আট মাস পর আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যা গত বছর ২৪ অক্টোবর আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

সেদিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন অন্যদের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এক মাস সময় চাইলে আদালত গত ২১ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এরপর বিএফআইইউয়ের বরাত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দেয়। পরদিন আদালত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে আসা অর্থপাচারকারী ব্যক্তি-সত্তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দিল বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *