জীবনের গল্প আর বাকি রইল না। আজ সোমবার ৬ জুলাই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নিলেন এন্ড্রু কিশোর। বাংলা গানের কিংবদন্তি এই শিল্পী পুরো ক্যারিয়ারে বিখ্যাত সব গান উপহার দিয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এন্ড্রু কিশোর মোট ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন ৫ বার। এছাড়াও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সবেচয়ে বড় অর্জন কোটি মানুষের ভালোবাসা।
পুরস্কার ও মনোনয়ন
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
১৯৮২ শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বড় ভালো লোক ছিল বিজয়ী
১৯৮৭ সারেন্ডার- বিজয়ী।
১৯৮৯ ক্ষতিপূরণ- বিজয়ী।
১৯৯১ পদ্মা মেঘনা যমুনা- বিজয়ী।
১৯৯৬ কবুল-বিজয়ী
২০০০ আজ গায়ে হলুদ- বিজয়ী
২০০৭ সাজঘর- বিজয়ী
২০০৮ কি যাদু করিলা- বিজয়ী
বাচসাস পুরস্কার
১৯৮৪ প্রিন্সেস টিনা খান -সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পী
১৯৮৭ স্বামী স্ত্রী- বিজয়ী
২০০১ প্রেমের তাজমহল- বিজয়ী
২০০৮ মনে প্রাণে আছ তুমি- বিজয়ী
২০১০ গোলাপী এখন বিলাতে- বিজয়ী
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ১৯৯৮ শ্রেষ্ঠ গায়ক বিজয়ী
১৯৯৯ ‘পদ্ম পাতার পানি’ বিজয়ী
‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত গায়ক এ্যান্ড্রূ কিশোর দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন। দেশের বাইরে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। রাজশাহীতে তার বোনের বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শিল্পী এ্যান্ড্রূ কিশোরের জন্ম ৪ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এ্যন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বাধিক ১৫ হাজার গান গাওয়া শিল্পী। চলচ্চিত্রে তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় গান আর কারও নেই।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’ প্রভৃতি।

