বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছিল শীর্ষ আদালত, অথচ ওই মামলায় কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা হল না! লখনউ-এর বিশেষ সিবিআই আদালতের রায় সামনে আসার পর প্রতিক্রিয়া কংগ্রেসের। এদিনের রায় গত নভেম্বরের সুপ্রিম কোর্টের রায়-বিরোধী এবং সংবিধানের পরিপন্থী। উচ্চ আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হোক, দাবি করেন অভিজ্ঞ কংগ্রেস নেতা এবং দলীয় মুখপাত্র রণদীপ সুর্যেওয়ালা।
বুধবারের ‘ঐতিহাসিক’ রায়ে বিশেষ সিবিআই আদালত জানিয়েছে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ঘটনার পেছনে কোনও ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল না। লালকৃষ্ণ আদবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যার জন্য তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে। বরং ভাঙচুরে মদত দেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত তা আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁরা, ২,৩০০ পাতার রায় শুনিয়ে জানান বিচারক সুরেন্দ্রকুমার।
গোটা ঘটনার পেছনে আরএসএস-এর ‘বড়সড় ষড়যন্ত্র’ রয়েছে, মনে করছে কংগ্রেস। ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করাই মূল্য উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংগঠনের, অভিযোগ কংগ্রেস। এদিনের রায়কে ‘তীব্র আপত্তিকর’ বললেন মিম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনিও। বলেন, ‘হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীদের স্বস্তি দেবে এই রায়। ৬ ডিসেম্বর যেদিন বাবরি ভাঙা হল, সেটা কি ম্যাজিক ছিল? ওখানে করসেবকদের জড়ো হতে বলেছিলেন কারা? মসজিদ চত্বরে ঢোকার রাস্তা করে দিয়েছিল কারা?’ কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেল বলেন, ‘আপত্তিকর রায়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী।’ বাম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি যেখানে মসজিদ ভাঙাকে আইন-ভঙ্গকারী বলছেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই রায় একেবারে হাস্যকর এবং অপমানজনক। যাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা ছিল, সবাইকে বেকসুর খালাস করা হল। মসজিদ কি তাহলে নিজে থেকে ধ্বংস হয়েছে?’ অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর বলছেন, ‘বাবরি মসজিদ আপনা-আপনিই ধসে পড়েছে।’ গুজরাটের বিধায়ক জিগনেশ মেবানি বলেন, ‘১৯৯২ এবং ২০১৯... এবার ২০২০। কেউ ভাঙেনি বাবরি মসজিদ। কপিল শর্মা যেখানে এখন শান্তির প্রতীক, সেখানে বাবরি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং রথযাত্রা-পুরোটাই ভুয়ো খবর। ২০১৪ সালের আগের সমস্ত খবরই ভুয়ো। শুধু বিজেপি-জমানার খবর সত্যি।’

