শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

বিবিএস জরিপ: করোনাকালে প্রতি পরিবারের আয় কমেছে ৪ হাজার টাকা

মহামারি করোনার প্রভাবে গত ৫ মাসে দেশে প্রতিটি পরিবারের আয় কমেছে ৩ হাজার ৯৩৩ টাকা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি জরিপে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর বিবিএস দেশের ৯৮৯টি পরিবারের ওপর টেলিফোনে জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পায়। জরিপের ফল বলছে,করোনার আগে গত মার্চ মাসে প্রতি পরিবারে মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৯২ টাকা। সেই হিসাবে পাঁচ মাসের ব্যবধানে পরিবারের গড় আয় কমেছে ৩ হাজার ৯৩৩ টাকা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের সামনে জরিপের এই চিত্র তুলে ধরেন।

জরিপের ফল অনুযায়ী, আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও কমেছে। গত মার্চ মাসে পরিবার প্রতি মাসিক খরচ ছিল ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা। গত আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১১৯ টাকা। দেখা যাচ্ছে, পাঁচ মাসের ব্যবধানে পরিবার প্রতি খরচ কমেছে ১ হাজার ২৮৪ টাকা। অর্থাৎ আয় কমে যাওয়ায় ভোগের চাহিদাও কমেছে।

এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর প্রায় ৬৮ শতাংশ পরিবার করোনার কারণে কোনও না কোনোভাবে আর্থিক সমস্যায় পড়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলেছে, মহামারির আভিঘাত ক্রমান্বয়ে কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে বেকারত্বের হার ২২ শতাংশের ওপরে চলে গেলেও সেপ্টেম্বরে তা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ার আগ পর্যন্ত বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এপ্রিল-জুলাই চার মাস লকডাউন থাকায় বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ওই বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিবিএস গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের শ্রম বাজারের সার্বিক ধারণা পাওয়ার জন্য এই জরিপ পরিচালনা করে।’

জরিপের ফল দেখে মান্নান বলেন, ‘দেশের শ্রম বাজার প্রায় আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাত ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দ্বৈব চয়নের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে ৯৮৯ জন উত্তরাদাতার তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী,এ বছরের মার্চ মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে খানাভিত্তিক মাসিক গড় আয় ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু এসময়ের মধ্যে ব্যয় কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।’

জরিপের তথ্য বলছে, চলমান কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে আনুমানিক ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পরিবার কোনও না কোনোভাবে খাদ্যদ্রব্য ভোগের পরিমাণ মার্চ মাসের তুলনায় কমিয়েছে। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আয় কমার কারণে কমিয়েছে বলে জানিয়েছে।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারিতে ৬৮ দশমিক ৩৯ ভাগ মানুষ কোনও না কোনোভাবে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। ওই সময়ে ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরিবার সহায়তা বা ত্রাণ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে ৯৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ সরকারি সহায়তা নিয়েছে। যেসব পরিবার এসব সহায়তা নিয়েছে, মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের গড় আয় ছিল ২০ হাজার টাকা বা তারও কম। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই সহায়তা নিয়েছে।

জরিপে উত্তরদাতাদের মধ্যে গত মার্চ পর্যন্ত ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ কৃষিজীবী ছিলেন। এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত তা ৯ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এলেও সেপ্টেম্বর মাসে তা আবারও ১০ দশমিক ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ কৃষিজীবীর সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল ছিল।

গত মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এপ্রিল থেকে জুলাই সময়ে তা নেমে আসে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে। তবে সেপ্টেম্বরে তা পুনরায় বেড়ে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

একইভাবে মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে দিনমজুরের সংখ্যা ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এপ্রিল-জুলাই সময়ে তা নেমে আসে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশে। তবে সেপ্টেম্বর তা আবারও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *