শিরোনাম
শনি. জানু ৩১, ২০২৬

কোভিড নিয়ে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিন্দাজনক, দাবি প্রাক্তন সাংসদ প্রকান্তর

কোভিড ইস্যুতে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসনের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ প্রকান্ত ওয়ারিসা। কারণ বিগত সাত-আট মাসে জেলা প্রশাসন কোভিডে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির অন্তিম সত্‍কারের জন্য এক টুকরো জমির বন্দোবস্ত করতে পারেনি। এতে তিনি পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

তাঁর মতে কোনোও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর অন্ত্যেষ্টি সত্‍কার ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সম্পন্ন হওয়া উচিত। কিন্তু ডিমা হাসাও প্রশাসন তথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ তাদের ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দার ব্যপার।

কারণ বলবাহাদুর থাপার শেষকৃত্যের জন্য পাহাড়ের কোথাও একটুকরো জমির জোগাড়ে ব্যর্থ প্রশাসন। নির্লজ্জ ভাবে এখান থেকে শতাধিক কিলোমিটার দূরের হোজাই জেলায় বলবাহাদুর থাপার অন্তিম সত্‍কার করেন।

ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতার দরুন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির অন্তিম সত্‍কার এ জেলায় সম্ভব হচ্ছে না। জমি নেই। ফলে কোভিডে মৃত্যু হলে মৃতের নিকটাত্মীয়দের হাহাকার করতে হয়।

অভিযোগ, জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগ কার্যালয়ে বসেই নিজ কর্তব্য পালন করার জন্য সাধারণ জনগণকে এহেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নেটিজেনরাও সরব হয়েছেন। সবাই এক বাক্যে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন। কারণ দীর্ঘ সাত মাসে জেলা প্রশাসন কোভিডে মৃত্যু হওয়াদের অন্তিম সত্‍কারের জন্য শ্মশান বা সমাধিস্থলের জন্য জমির জোগাড় করতে সক্ষম হননি।

প্রাক্তন সাংসদ প্রকান্ত ওয়ারিসা এ ব্যপারে ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন যে একজন লোক সারাটা জীবন অতিবাহিত করার পর বিদায় বেলার অন্তিম সত্‍কারে যদি লাঞ্ছিত হতে হয় তা মেনে নেওয়া যায় না। তাহলে জেলা প্রশাসন থাকা না থাকা সমান কথা।

প্রাক্তন সাংসদ ওয়ারিসা কোভিড ইস্যুতে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন গত ২১ সেপ্টেম্বর শহরের বিশিষ্ট নাগরিক তথা অবসরপ্রাপ্ত এসিএস আধিকারিক থানন গার্লোসার কোভিডে মৃত্যু হয়।

কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে পরিবার তথা নিকটাত্মীয়রা অন্তিম সত্‍কার নিয়ে বিপাকে পড়েন। কারণ সরকারিভাবে কোনোও ডেজিগনেটেড শ্মশান নেই। যেখানে দাহ কার্য করা হবে। পরবর্তীতে দয়াং নদীর পাশে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। একই ভাবে ৩ অক্টোবর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলবাহাদুর থাপারও কোভিডে মৃত্যু হয়। কিন্তু সেই একই সমস্যা।

তিনি বলেন এই মুহূর্তে কোভিড নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশাসনের সজাগতা সভা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কোভিডে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির শরীর থেকে কোনো ধরনের সংক্রমণ হতে পারে না। অথচ এ ব্যাপারে সজাগতা নেই।

ওয়ারিসা বলেন পার্বত্য পরিষদের তরফে ছোট হাফলং এলাকায় জমি প্রশাসনকে তুলে দেওয়া হয়। অবশ্য ওই জমিতে দাহ কার্যে নিকটস্থ গ্রামের গ্রামবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিগত একমাসেও প্রশাসন বিকল্প জমির সন্ধান করতে পারেন নি।

এদিকে অন্য এক বিশ্বস্ত সূত্র মতে জেলাশাসক পল বরুয়ার সঙ্গে পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ নেতৃত্বের সুসম্পর্ক নেই। এতেই সমস্যা হচ্ছে।।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *