গুয়াহাটি : যাত্ৰী এবং যান মালিক, উভয় পক্ষকে স্বস্তি দিয়েছে অসম সরকার। আগামীকাল শুক্রবার থেকে স্বাভাবিক গতিতে ১০০ শতাংশ যাত্ৰী নিয়ে যাতায়াত করবে যানবাহন। গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯-এর প্রটোকল অনুসারে সামাজিক দূরত্বের জন্য ৫০ শতাংশ যাত্রীর শর্তাবলী প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ব্যাপারে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারির পর তাঁদের অনির্দিষ্টকালের চাক্কা বনধ আন্দোলনও প্রত্যাহার করেছে সারা অসম মটর পরিবহণ সংস্থা।
লকডাউন বা আনলক পর্যায়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে ৫০ শতাংশ যাত্ৰী নিয়ে বাস বা অন্যান্য যানবাহনকে যাতায়াত করতে আদেশ জারি করার ফলে গাড়ির মালিক ও যাত্রীদের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর ভোর থেকে আনির্দিষ্টকালের ‘চাক্কা বনধ’ কর্মসূচি শুরু করেছিল সারা অসম মটর পরিবহণ সংস্থা। করোনা পরিস্থিতিতে যেহেতু ৫০ শতাংশ যাত্রী বহণের কথা বলা হয়েছিল। তাই ৫০ শতাংশ কর রেহাই দেওয়া সহ ৫০ শতাংশ যাত্ৰী বহণের নির্দেশ যেমন দেওয়া হয়েছে, তেমন যাত্ৰীভাড়া ৫০ শতাংশ বেশি করে নিতে অনুমতি দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের চাক্কা বনধ-এর আজ ছিল চতুর্থ দিন। তাঁদের দাবি নিয়ে গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারির সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন মটর পরিবহণ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মন্ত্রী বলেছিলেন, অতিমারি করোনা পরিস্থিতিতে গত আট মাসে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে আপাতত বাস ভাড়া বাড়ানো সম্ভব নয়, তা-ও বৈঠকে জানিয়েছিলেন পরিবহণ মন্ত্ৰী। তবে শীঘ্রই এর সমাধানসূত্র বের করা হবে বলে সেদিন তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন। তবু তাঁদের চাক্কা বনধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে এ সম্পর্কে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগের প্ৰধানসচিব সমীরকুমার সিনহা জানিয়েছেন, কোভিডের মোকাবিলা করতে ৫০ শতাংশ যাত্ৰী নিয়ে গাড়ি চলাচলের যে নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর থেকে ১০০ শতাংশ যাত্ৰী নিয়েই যানবাহন চলাচল করার অনুমতি প্রদান করতে রাজ্যের পরিবহণ দফতরকে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতির আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে গাড়িতে সিট ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ১০০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে গাড়িগুলো। তবে গাড়ির মালিক, চালক, হ্যান্ডিমেন এবং যাত্ৰীদের কিছু শৰ্ত বেঁধে দিয়েছেন প্ৰধানসচিব সমীর সিনহা। বলেছেন, সংশ্লিষ্ট গাড়ির সিট সংখ্যার চেয়ে কোনও অবস্থাতেই বেশি যাত্রী উঠানো যাবে না। এছাড়া ফেসমাস্ক ছাড়া কোনও যাত্রী এবং চালক বা হ্যান্ডিম্যানও গাড়িতে উঠতে পারবেন না। প্রত্যেকবার গাড়ির যাত্ৰা শুরুর আগে ভালোভাবে সম্পূর্ণ গাড়িকে সেনিটাইজ করতে হবে। এই নিৰ্দেশ অমান্য করলে রাজ্যের পরিবহণ বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহণ করবে বলে সতর্ক করেছেন প্ৰধানসচিব সিনহা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সারা অসম মটর পরিবহণ সংস্থা তাদের চাক্কা বনধ আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্ৰদীপ দাস এই খবর দিয়ে বলেছেন, সরকার এখন থেকে ১০০ শতাংশ যাত্ৰী বহণ করে বাস, ট্ৰ্যাকার, ম্যাজিক প্রভৃতি যানবাহন চলাচলে অনুমতি দেওয়ায় তাঁরা তাঁদের আন্দোলন আজ চতুর্থ দিনে প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার খাতিরে সরকারের বেঁধে দেওয়া শর্তও তাঁরা মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক, কন্ডাক্টর এবং হ্যান্ডিমেনদের বলা হয়েছে। বিশু / এসকেডি / অরবিন্দ

