বিহারে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার ২৮ অক্টোবর। প্রথম দফায় মোট ২ কোটি ১৪ লক্ষ ভোটার। সবমিলিয়ে ১০৬৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৭১টি বিধানসভা আসনে। করোনা ভাইরাস মহামারীর মাঝে সারা বিশ্বের মধ্যে এটাই প্রথম কোনও বড় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এরপরে রয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বিহার নির্বাচনে একদিকে যেমন রয়েছে ক্ষমতায় থাকা জেডিইউ-বিজেপির জোট, অন্যদিকে রয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি এবং বাম দলগুলির মহাজোট। সবমিলিয়ে এই নির্বাচন যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আজ প্রথম দফায় ১০৬৬ জন ভোটের ময়দানে নেমেছেন। এই প্রার্থীদের মধ্যে ৯৫২ জন পুরুষ। গয়া আসনে ২৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। অন্যদিকে কাটোরিয়া আসনে লড়াই করছেন মাত্র ৫ জন প্রার্থী।
গত নির্বাচনে এই ৭১ টি আসনের মধ্যে আরজেডি ২৭টি, জেডিইউ ১৮টি, ১৩টি বিজেপি এবং কংগ্রেস নটি আসনে জয়লাভ করেছিল।
প্রথম দফার ৭১ টি আসনের মধ্যে জেডিইউ ৩৫ টি আসনে এবং বিজেপি ২৯ টি আসনে লড়াই করছে। বাকি সাতটি আসন অন্য ছোট দলগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মহাজোটে আরজেডি ৪২ টি আসনে এবং কংগ্রেস ২০টি আসনে লড়ছে। এছাড়া লোক জনশক্তি পার্টি ৪১ টি আসনে লড়াই করছে।
নির্বাচন কমিশন ৭ লক্ষ ইউনিট হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৪৬ লক্ষ মাস্ক, ৬ লক্ষ পিপিই কিট, ৬.৭ লক্ষ ফেস শিল্ড এবং ৩০ লক্ষ জোড়া গ্লাভসের ব্যবস্থা করেছে।
প্রতিটি বুথে ইভিএম স্যানিটাইজ করা হবে। প্রতিটি ভোট কর্মী মাস্ক ও পিপিই পরবেন। ভোটদাতাদের সকলকে মাস্ক পরতে হবে এবং ভোট দেওয়ার আগে তাদের থার্মাল স্ক্রিনিং হবে।
এদিন প্রথম দফায় ৭১ টি আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার পরে দ্বিতীয় দফায় ৯৪ টি আসন এবং তৃতীয় দফায় ৭৮ টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সবমিলিয়ে ২৪৩ টি আসনে ৭ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ভোট দান করবেন।
কেন্দ্রে বিজেপির সঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টি এখানে শেষ মুহূর্তে জোট ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। একটি আলাদা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা এই নির্বাচনে লড়াই করছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিরাগ পাসোয়ান। এই দলের সঙ্গে বিজেপির আলাদা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে বলে বেশ কিছুদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলের মহাজোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরজেডি নেতা তথা বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।
এবারের নির্বাচনে জিতলে পরপর পাঁচবার ভোটে জিতবেন নীতীশ কুমার।
করোনা ভাইরাসের আবহে ভোটদান পর্ব হওয়ায় ভারতের নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু বিধিনিষেধের মাধ্যমে ভোট করতে এগিয়ে এসেছে। ভোটের সময়সীমা যেমন একটি বিষয় যেখানে নজর রাখা হয়েছে, ঠিক তার পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা রাখা হয়েছে।

