শুভ্র মুখোপাধ্যায়: শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলে নতুন এক মহান উদ্যোগ। এবার ইংল্যান্ডের নামী প্রাক্তন ফুটবলার ও লিভারপুল কিংবদন্তি রবি ফাউলার কোচ হয়ে এসেই জানিয়েছিলেন তিনি ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস নিয়ে উচ্ছ্বসিত। এত পুরনো একটা ক্লাবের কোচিং করাতে পেরে তিনি তৃপ্ত।
দলের বিদেশী ফুটবলাররাও একই কথা বলেছেন ভারতে এসে। আরও ভাল করে বললে গোয়ায় লাল হলুদ শিবিরে এসে। পিলকিংটন, মাঘোমা থেকে শুরু করে বাকিরাও জানিয়েছেন, যে ক্লাবের ইতিহাস ১০০ বছরের, যাঁদের সমর্থকদের খেলা নিয়ে একটা আবেগ রয়েছে, সেই ক্লাবের হয়ে ভাল খেলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
একটা বিদেশী দলের প্রতি এতটা আবেগ দেখে মুগ্ধ লাল হলুদের কর্তারাও। বিশেষ করে ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের আধিকারিকরাও। তাই তাঁরা দলের ভিনরাজ্য ও বিদেশী ফুটবলারদের সামনে ক্লাবের অতীত ইতিহাস ও গরিমা মেলে ধরার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।
যাঁরা এবার ইস্টবেঙ্গলে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ তাঁরা প্রত্যেকেই ক্লাবের ইতিহাস, পুরনো রেকর্ড সম্পর্কে অল্পবিস্তর ওয়াকিবহাল। কিন্তু ইনভেস্টররা উদ্যোগী হয়ে এবার ক্লাবের পুরনো ফুটবলারদের গৌরব ও গরিমা বর্তমান দলের কাছে তুলে ধরতে চান। সেই কারণেই ইস্টবেঙ্গল গোয়ার পানাজিতে হিল্টন রিসর্ট নামে যে হোটেলে উঠেছে, সেই আস্তানার প্রতিটি ঘরে প্রাক্তন ফুটবলারদের ছবি টাঙানো হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা প্রয়াত, অথচ তাঁদের অতীত গরিমা ক্লাবকে সমৃদ্ধ করেছিল, সেইসব প্রাক্তনদের ছবি টাঙানো হয়েছে।
সেই তালিকায় ইস্টবেঙ্গলের বিখ্যাত পঞ্চপান্ডবসহ (আমেদ খান, সালে, বেঙ্কটেশ, আপ্পারাও, ধনরাজ) স্থান পেয়েছেন কৃশানু দে, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়রাও। এমনকি রামবাহাদুর, থেকে শুরু করে পিটার থঙ্গরাজদের ছবিও শোভা পাচ্ছে। শুধু ছবি টাঙানোই নয়, ওই মহান ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও তাঁদের গৌরবগাথাও লেখা রয়েছে ছবির নিচে।
ক্লাবের এক শীর্ষ কর্তা বৃহস্পতিবার রাতে জানালেন, ”এটা আমরাই এবার ইনভেস্টরদের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা নিয়েছি। কারণ যে ফুটবলাররা এসেছে, তাঁদের সকলেরই আগ্রহ ছিল ক্লাবের ফুটবলারদের সম্পর্কে জানা, তাদের অতীতের সোনালি অধ্যায় নিয়ে কৌতূহলও ছিল। সেই জন্যই তাঁদের প্রত্যেকের ঘরে প্রাক্তন ফুটবলাররা, যাঁরা আমাদের মধ্যে আর নেই, তাঁদের ছবি টাঙানো হয়েছে।”
কর্তাদের ধারণা, এতে করে ক্লাব সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে। তাতে নিজেদের মেলে ধরার একটা তাগিদ থাকবে। কারণ এবার করোনা মহামারির কারণে সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দলের অনুশীলন আগে শুরু করা সম্ভবপর হয়নি। এমনকি ভিনরাজ্যের ফুটবলাররা থেকে শুরু করে বিদেশী নামী তারকারাও সরাসরি নিজেদের বাড়ি থেকে গোয়ার হোটেলে এসে উঠেছেন। কলকাতা এলে এত কিছু আয়োজনের দরকারই পড়ত না।
সেই কারণেই কর্তাটি বলেছেন, ”কলকাতায় এলে ক্লাব তাঁবুতে পা পড়লে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু সেইসময়ও আমরা পেলাম না। আর গোয়াতেই আইএসএল হবে। একটা জায়গায় সব ম্যাচ। তাই এত বড় টুর্নামেন্টের আগে দলের ফুটবলারদের একাত্ম করার এটি প্রয়াসও বলা যেতে পারে।”
তার চেয়েও বড় বিষয়, দলের প্রাক্তন ফুটবলারদের সম্পর্কে জানানোর জন্য ক্লাবের তরফে একজনকে নিয়োগও করা হয়েছে। তিনিই ইতিহাস ও তথ্য তুলে ধরবেন কোচসহ দলের ফুটবলারদের কাছে।
শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলে অনেক দেরি করে আইএসএলের জন্য যাত্রা শুরু করলেও নানা ব্যবস্থাপনায় একফোঁটা ত্রুটি রাখতে চাইছে না ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁরা চান এই বছরই প্রবেশ করে আইএসএলের খেতাব জয়ের স্বাদ পেতে।

