করোনার টিকা শুধু নয়। রেবিস, ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক সহ দশ রকমের ভ্যাকসিন তৈরি হবে। ওড়িশায় নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট খুলছে দেশের বৃহত্তর ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (বিবিআইএল)। করোনার টিকা কোভ্যাক্সিনের চূড়ান্ত পর্বের ট্রয়াল করছে ভাকত বায়োটেক। ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদন পেলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই টিকা চলে আসবে বলে ঘোষণাও করেছে কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা। ওড়িশায় নতুন ইউনিট খুললে ভ্যাকসিনের উত্পাদন আরও বাড়বে বলেই জানিয়েছে ভারত বায়োটেক। সেই সঙ্গে অন্যান্য টিকার গবেষণা ও উত্পাদনেও গতি আসবে।
ওড়িশার মুখ্যসচিব অসিত ত্রিপাঠি জানিয়েছে, রাজ্যে নতুন ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট খোলার জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভুবনেশ্বরের অন্ধরুয়ার কাছে খোলা হবে এই নতুন ইউনিট। হায়দরাবাদের জিনোম ভ্যালিতে রয়েছে ভারত বায়োটেকের হেডকোয়ার্টার। ১৯৯৬ সালে এই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন ডক্টর কৃষ্ণা এল্লা। ভ্যাকসিন ছাড়াও বায়োথেরাপি সংক্রান্ত গবেষণা, হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টও তৈরি হয় ভারত বায়োটেকে। চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিন প্রথম তৈরি করেছিল ভারত বায়োটেক। জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতেও নাম আছে হায়দরাবাদের এই সংস্থার। রোটাভাইরাসের ভ্যাকসিন রোটাভ্যাকের জন্যও বিখ্যাত কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, ভুবনেশ্বরের বায়োপার্কে যে ইউনিট তৈরি হবে সেখানে রোটাভাইরাস ডায়ারিয়া, ম্যালেরিয়া, জাপানি এনসেফেলাইটিস, রেবিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, স্ট্যাফাইলোক্কাসের প্রতিষেধকও তৈরি হবে।
ইউনিট তৈরির জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইডিসিও-র স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও টেকনিক্যাল এডুকেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার সিং। করোনার টিকার উত্পাদনও হবে এই ইউনিটে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাত্ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। এই টিকার প্রথম দুই পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রিপোর্ট ভাল বলেই দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার ভাইরোলজিস্টরা। টিকার কার্যক্ষমতা বাড়োনর জন্য তার সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট অ্যালহাইড্রক্সিকুইম-২ যোগ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভাইরোভ্যাক্স এলএলসি-র সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে এই অ্যাডজুভ্যান্ট বিদেশ থেকে আনিয়েছে ভারত বায়োটেক।

