শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ২২, ২০২৬

প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় নথি

বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে কিছু ব্যাংকের পর্ষদ সভায়। এতে বাইরে প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় নথি। ফলে ব্যাংকসহ আমানতকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পর্ষদ সভায় কোনোক্রমেই বহিরাগত কোনো ব্যক্তি, বিশেষ প্রয়োজনে পর্ষদ ও পর্ষদের সহায়ক কমিটির সদস্যদের আহবান ছাড়া ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং শেয়ারহোল্ডার পরিচালনা পর্ষদ ও পর্ষদের সহায়ক কমিটির সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা হয়েছে। গতকালই ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডিদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ব্যাংক ও গ্রাহকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকে। গ্রাহকের ঋণ প্রস্তাব, ঋণ নবায়ন, সুদ মওকুফ, নতুন ঋণ অনুমোদন, ব্যাংকের আমানতের পরিস্থিতি, ব্যাংক শাখা ও গ্রাহকের ওপর অডিট রিপোর্টসহ সার্বিক চিত্র উপস্থাপন হয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায়। এ জন্য পর্ষদ সভার বিষয়াবলি ব্যাংকের জন্য যেমন অত্যন্ত গোপনীয় থাকে তেমনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয় গ্রাহকের জন্য।

এ কারণেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও পর্ষদের সহায়ক কমিটির সভায় ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা শেয়ারহোল্ডাররা যেন উপস্থিত থাকতে না পারেন সে জন্য এর আগে সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কিছু কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় ও পর্ষদের সহায়ক কমিটির সভায় বহিরাগত ব্যক্তি, ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত থেকে সভায় অংশগ্রহণ করছেন। এতে সভাগুলোতে আলোচিত গোপনীয় বিষয়াবলি প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক-কোম্পানিসহ আমানতকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, বহিরাগতরা ও শেয়ারহোল্ডাররা এক দিকে পর্ষদ সভায় উপস্থিত থেকে পর্ষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত করছেন, তেমনি প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের পছন্দের কোম্পানিকে বা ব্যক্তিদের ঋণ প্রস্তাব পাস করে নিচ্ছেন। আবার এসব বহিরাগতের উপস্থিতিতে পর্ষদ স্বাধীনভাবেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এসব বিষয়ে কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পর ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে কোনো ব্যাংকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সার্কুলার লেটার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো: নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদ ও সহায়ক কমিটির সভায় কোনো অবস্থাতেই বহিরাগত কোনো ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এমনকি কোনো সহায়ক কমিটির সভায়ও যেন বহিরাগতরা উপস্থিত থাকতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা পরিপালনে নিশ্চিত করতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভায় পর্ষদকে অবগতির জন্য এ নির্দেশনা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *