শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

বিহারের সবচেয়ে ‘গরিব’ বিধায়ক থাকেন ঝুপড়িতে

বিহারের চারবারের নির্বাচিত বিধায়ক মেহেবুব আলম। তিনি এতটাই ‘গরিব’ যে এখনো থাকেন ঝুপড়িতে। কারণ পাকা বাড়ি করার সামর্থ নেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশের সবচেয়ে গরিব রাজ্য বিহার। তবে এবারের বিধানসভায় জয়ী ৮১ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। কিন্তু ব্যতিক্রম মেহেবুব আলম। তিনি বারবার ভোটে জিতেও; ঝুপড়ির হাল ফেরেনি। বিধানসভার রাজ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ভোট জিতেছেন তিনি।

অন্য প্রার্থীরা যেখানে গাড়িতে চড়ে নির্বাচনী প্রচারণা করেন, সেখানে পায়ে হেটে ঘোরেন মেহবুবে। এখনও বর্ষায় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে।

এবারের নির্বাচনে মেহবুব জিতেছেন ৫৩ হাজার ৭৮ ভোটে। ২০১৫ সালেও জিতেছিলেন। তার আগে আরও দু’বার তিনি বিধায়ক হয়েছেন। এ বার মেহবুব ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট। তার প্রতিপক্ষ বিকাশশীল ইনসান পার্টির বরুণকুমার ঝা পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ ভোট। বিহারের আর কোনো প্রার্থী এতো বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতেনি। এর থেকেই বোঝা যায়, নিজের এলাকায় কতখানি জনপ্রিয় এই বিধায়ক৷

শিবানন্দুপর গ্রামের কাঁচা বাড়িতে থাকেন মেহবুব। বাড়িতে ইটের গাঁথনি থাকলেও তাতে প্লাস্টার পড়েনি। মেঝে এখনও মাটির। ঘরের আসবাবও সাদামাটা। অতিথি অভ্যাগত গেলে ঘর থেকে উঠোনে নামে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার। দুই ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে সরকারি স্কুলে। বিধায়ক হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার রুপি পেলে তার প্রায় সবটাই দিয়ে দেন দলের তহবিলে।

নির্বাচন কমিশনে ৬৪ বছরের মেহবুব যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে দেখা যাচ্ছে তার ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ হাজার রুপি। কিছু জমি, যার মোট মূল্য ৯ লাখ রুপি। একটি স্করপিও গাড়িও রয়েছে। কিন্তু সেই গাড়িটি একটি দুর্ঘটনার পর থেকে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বিহারে নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ৮১ শতাংশই কোটিপতি। আর নির্বাচিত সব বিধায়কের মধ্যে সবচেয়ে গরিব হচ্ছেন মেহবুব।

জয়ের পর সাংবাদিকদের মেহবুব বলেন, ‘আমি খুব সরল জীবনযাপন করি। এটা বামপন্থার জন্য নয়, বরং আদর্শ। আমার বিধানসভা এলাকায় অনেক মানুষকে দু’বেলা খাবারের জোগাড় করতে বহু কষ্ট করতে হয়। সেখানে আমি বিত্ত-বৈভবে দিন কাটাব, এটা ভাবতেও পারি না।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *