শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

চলচ্ছিত্রে কাজ করা জীবনের সবচে বড় ভুল ছিলো: নুরুল ইসলাম

মাটির ময়না। মাদরাসা বিরোধী একটি সিনেমার নাম। এর নির্মাতা তারেক মাসুদ মারা গেছেন। এক ভয়ানক রোড এক্সিডেন্টে নিহত হয়েছিলেন তিনি। সে সিনেমায় মাদরাসা ছাত্র (আনোয়ার-আনু) চরিত্রে অভিনয় করেছিলো নুরুল ইসলাম নামের এই লোকটি। আজ তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি ছোট্ট দোকানে চা, পান বিক্রি করেন।

বিষয়টি ওঠে এসেছে মিডিয়ায়। একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘চলচ্ছিত্রে কাজ করা জীবনের সবচে বড় ভুল ছিলো। তখন ছোট ছিলাম। কিছু বুঝতাম না। তাই সিনেমায় কাজ করতে চলে গিয়েছিলাম। আজ আমার বুঝে এসেছে। সে সময় যদি বুঝতাম তাহলে সিনেমায় কাজ করতাম না। এখন মুখে দাড়ি রাখি। হালাল কামাইয়ের জন্য এই ছোট্ট দোকানে চা-পান বিক্রি করি।’

জানা গেছে, সে সময় সিনেমায় প্রথমবার অভিনয় করেই বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর অভিনয় করা ছবিটিও দেশ-বিদেশের দর্শকের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। স্বীকৃতি হিসেবে দেশ তাঁকে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেই গৌরব আজ তাঁকে যন্ত্রণা দেয়। প্রায় ১৮ বছর আগলে রাখা সিনেমার পোস্টারটি ফেলে দিয়েছেন, পুরস্কারের স্মারকটিও নিজের কাছে রাখেননি ‘মাটির ময়না’ ছবির আনু চরিত্রে অভিনয় করা নুরুল ইসলাম।

জানা গেছে, দেড় বছর হলো তিনি থাকেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে। সেখানেই তাঁর ছোট্ট দোকান। সেখানে দেখা যায়, একজন ক্রেতার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন নুরুল। ‘মাটির ময়না’র প্রসঙ্গ তুলতেই মিলিয়ে যায় সেই হাসি। এক কাপ চা এগিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মিডিয়া ছাইড়া আইছি বহু বছর। এইগুলা আর ভাল্লাগে না। অনেক ধরা খায়া এখন ব্যবসা করি।’

আরও জানা যায়, প্রথমে বেঁচে থাকার জন্য ভ্রাম্যমাণ দোকান চালানো শুরু করেন তিনি। পরে দেন একটি পানের দোকান। সেই ব্যবসাও হয়ে ওঠেনি। ধারদেনা করে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে গিয়েছিলেন কাতার। সেখানেও কিছু করতে পারেননি তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *