ঘুষ দেয়া ও নেয়া দুটোই অপরাধ। এবার সেই অপরাধেই অপরাধী এক প্রবাসী বাংলাদেশি। এমনটি ঘটেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশী যুবক রানা আহমেদ (৩৭)। অনৈতিক সুবিধা নিতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে আট হাজার পাঁচশ রিংগিত ঘুষ প্রস্তাব করেন তিনি। পরে ঘুষ প্রস্তাবের অপরাধে গ্রেফতার করা হয় তাকে সোপর্দ করা হয় আদালতে। পরে আদালত তাকে ১০ হাজার রিংগিত অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
গত সোমবার কুয়ালালামপুরের দায়রা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক রানাকে ১০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়ে আরো বলা হয়, জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারালে কারা ভোগ করতে হবে এক বছরের।
মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম বেরিতা হারিয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) ইমিগ্রেশন অফিসে বিমান প্রবেশিকা নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে একজন ইমিগ্রেশন অফিসারকে রানা মালয়েশিয়ান আট হাজার পাঁচশ রিংগিত ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন। বিনিময় হিসেবে আটজন বাংলাদেশী প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুবিধা চেয়েছিলেন। ওই আটজনের হাতে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ফলে রাস্তা ছিল না নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার।
রানা আদালতকে জানান, তিনি মালয়েশিয়ায় সবজি ব্যবসা করেন। দেশে তার দুটি সন্তান রয়েছে ও তার উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা রয়েছে এ জন্য তাকে যেন কারাদণ্ড দেয়া না হয়।
বিচারক আজুরা আলভি বলেন, তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ মালয়েশিয়ায় বসবাস ও রোজগার করছেন। তার উচিত এ দেশের আইন-কানুনকে সম্মান করা। তাকে বিশেষ বিবেচনায় উপরোক্ত দণ্ড দেয়া হয়েছে ভবিষ্যতে আর ভুল করবেন না।

