শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নয়: রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে কোনও বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আপাতত কোনও রকম দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মিথ্যে মামলায় তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার, এই অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ রাজ্যের নেতারা। শুনানি ছিল শুক্রবার। শীর্ষ আদালত রাজ্যকে নোটিশ দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, ‘২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সরকার বিজেপির কোনও নেতার বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না’।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কিসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই বিচাপরতিরা ওই মন্তব্য করে রাজ্যকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ শুক্রবার বলেন, ‘‘এটা হওয়া খুব দরকার ছিল। বিজেপি নেতা, কর্মীদের ভোটে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য জেলায় জেলায় মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে রাজ্য সরকার। পুলিশ আর আদালতের ভয় দেখিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বার মুখ পুড়ল সরকারের।’’ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। বলেন, ‘‘অর্জুন ১ বছর হল বিজেপিতে এসেছে। আমি এসেছি ৪ বছর আগে। রাজ্য সরকার একের পর এক মামলা করছে। অর্জুন বা আমি যখন তৃণমূল করেছি, তখন কোনও মামলা ছিল না। এটা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা।’’ বাংলায় গণতন্ত্র বিপদের মুখে থাকার কারণেই সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বলে দাবি মুকুলের।

সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্ব সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, পশ্চিমবঙ্গে যে ফৌজদারি মামলাগুলি দায়ের করা হচ্ছে, সেগুলির তদন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। না হলে সেগুলির তদন্ত প্রক্রিয়া রাজ্যের বাইরে স্থানান্তরিত করা হোক। অভিযোগ করা হয়, ভুয়ো মামলায় তাঁদের ফাঁসাচ্ছে রাজ্য। যে বিজেপি নেতারা শীর্ষ আদালতে এই আবেদন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে কৈলাস, অর্জুন ছাড়াও ছিলেন মুকুল রায়, সৌরভ সিংহ, পবন কুমার সিংহ এবং কবিরশঙ্কর বসু।

সম্প্রতি বিধায়ক সত্যব্রত বিশ্বাসকে খুনের ঘটনায় দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। সেই চার্জশিটে তৃণমূল বিধায়কের হত্যাকাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে মুকুল রায়ের নাম ছিল। মুকুলের অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করছে রাজ্য। একই অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মতো নেতারাও।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *