শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

জামাতে নামাজের ৯ ভুল

জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি। বিশেষ কারণ ছাড়া জামাত ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাজ। একাকী নামাজের চেয়ে জামাতে নামাজের ফজিলত অনেক বেশি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জামাতে নামাজ পড়লে একাকী নামাজের তুলনায় সাতাশগুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ৬১৯)

জামাতে নামাজ পড়তে গিয়ে আমরা কিছু বিষয় ভুল করে থাকি। আজ আমরা ভুলগুলো জানব এবং তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব।

কাতার আঁকাবাঁকা হওয়া : কাতার সোজা করা জামাতে নামাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাতার সোজা করার জন্য রাসুল (সা.) জোর তাগিদ দিয়েছেন। সোজা কাতার মুসলিম ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করে দাঁড়াবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও মতভিন্নতা সৃষ্টি করে দেবেন। (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ৭১৭)

কাতারে ফাঁকা জায়গা রাখা : জামাতে কাতারে মুসল্লিদের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত নয়। দুজন মুসল্লির মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থাকলে সেখানে শয়তান প্রবেশ করে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাতার সোজা করো। কাঁধে কাঁধ রেখে দাঁড়াও। ফাঁকফোকর বন্ধ করো। তোমাদের ভাইদের জন্য হাত নরম করো এবং শয়তানের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ো না। যে ব্যক্তি কাতার মিলিয়ে নেয় আল্লাহ তাকে তার রহমতে আগলে নেন। আর যে কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তাকে তার রহমত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।’ (আবুদাউদ, হাদিস : ৬৬৬) অবশ্য, মহামারী কিংবা অন্য কোনো বিশেষ কারণে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে ফাঁকা রাখা যাবে।

সামনে জায়গা রেখে পেছনে দাঁড়ানো : সামনের কাতারে জায়গা থাকতে পেছনের কাতারে দাঁড়ানো জামাতে নামাজের আরেক ভুল। নিয়ম হলো, সামনের কাতার যতক্ষণ পূর্ণ হবে না, ততক্ষণ পরের কাতার শুরু হবে না। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সামনের কাতার আগে পূরণ করো। তারপর পেছনের কাতার। কোনো অপূর্ণতা থাকলে সেটা যেন সর্বশেষ কাতারেই থাকে।’ (আবুদাউদ, হাদিস : ৪৭১)

জামাতের জন্য দৌড়ে আসা : তাকবিরে উলা পাওয়া কিংবা রাকাত ছুটে না যাওয়ার জন্য অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন এবং দৌড়ে আসেন। এভাবে দৌড়ে আসতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। নামাজ আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়ার নাম। তাই মহান আল্লাহর সামনে প্রশান্ত চিত্তে নামাজ আদায় করাই ইসলামের শিক্ষা। রাসুল (সা.) বলেন, নামাজের ইকামত শুনলে জামাতে শামিল হও। অবশ্যই ধীরে-সুস্থে যাও। তাড়াহুড়ো করো না। জামাতের যতটুকু পাও ইমামের সঙ্গে পড়ো, বাকিটা একাকী পূর্ণ করে নাও।’ (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ৬৩৬)

রুকু না পেলে পরের রাকাতের জন্য অপেক্ষা করা : রুকু না পেলে নামাজে যোগ না দিয়ে পরের রাকাত শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ভুল। বরং যে অবস্থাতেই ইমামকে পাওয়া যাবে, সে অবস্থা থেকেই জামাতে শামিল হতে হবে। ইমাম সেজদায় থাকলে মুসল্লিও সেজদায় চলে যাবেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, জামাতের যতটুকু পাও ইমামের সঙ্গে পড়ো, বাকিটা একাকী পূর্ণ করে নাও।’ (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ৬৩৬) অবশ্য, রাকাত গণ্য হওয়ার জন্য রুকুতে বা তার আগে পাওয়া আবশ্যক।

ইমামের আগে রুকু-সেজদা করা : ইমামের পূর্বে রুকু-সেজদায় চলে যাওয়া এবং ইমামের আগেই রুকু-সেজদা থেকে ওঠে যাওয়া মারাত্মক ভুল। ভুলে এমনটি করলে নামাজ নষ্ট হবে না, তবে ইচ্ছাকৃত করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। এমন ব্যক্তির জন্য হাদিসে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইমামের আগে মাথা উঠিয়ে নেওয়া ব্যক্তি কি ভয় পায় না যে, আল্লাহ চাইলে তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করতে পারেন অথবা তাকে গাধার আকৃতি দান করতে পারেন!’ (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ৬৯১)

লোকমা না দেওয়া : ইমামের কোনো ভুল হয়ে গেলে লোকমা দেওয়া এবং তাকে ভুলের জন্য সংকেত দেওয়া জরুরি। আল্লাহু আকবার নয়, বরং সুবহানাল্লাহ বলেই লোকমা দেওয়া বিধেয়। আর নামাজে শরিক এবং ভুল ধরার যোগ্যতা রাখেন, এমন যে কেউ লোকমা দিতে পারেন। তাই এই দায়িত্ব মুয়াজ্জিনের ঘাড়ে চাপানো অযৌক্তিক। (ফাতাওয়া রহিমিয়া, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৮৮)

এক সালাম ফেরানোর পরই মাসবুকের দাঁড়িয়ে যাওয়া : যখন ইমাম সাহেব সালাম ফেরাবেন, তখন মাসবুক ব্যক্তি সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করবেন। অনেকে ইমাম সাহেব এক সালাম ফেরানোর পর দ্বিতীয় সালাম শুরু করার সময়ই দাঁড়িয়ে যান, এটি অনুচিত। নিয়ম হলো, ইমাম সাহেব ডানে-বামে উভয় দিকে সালাম ফেরানো শেষ করার পর একটু অপেক্ষা করে মাসবুক ব্যক্তি দাঁড়াবে। এর আগে নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৮)

মোনাজাতকে নামাজের অংশ মনে করা : আমাদের সমাজে ফরজ নামাজের জামাত শেষে সম্মিলিত মোনাজাত করা হয়। বিশুদ্ধমত হিসেবে, এভাবে মোনাজাত করা বৈধ। অনেকে সুন্নতও বলে থাকেন। তবে মনে রাখতে হবে, মোনাজাত নামাজ ও জামাতের অংশ নয়। সালাম ফেরানোর মধ্য দিয়েই নামাজ ও ইমামতি শেষ হয়। তাই কেউ মোনাজাতে শরিক নাও হতে পারেন কিংবা নিজের মতো করে দোয়া করতে পারেন, তাতে দোষের কিছু নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *