বিশু / সমীপ, শিলচর (অসম): ‘আস্থা’ কর্মসূচির জন্য জাতীয় স্তরে ‘স্কোচ’এর অধীনে কাছাড় জেলাকে রৌপ্যপদক দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আস্থা কর্মসূচি কাছাড়ের জেলাশাসক কীর্তি জল্লির নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক সুমিত সত্তায়ান, স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম-অধিকর্তা ডা. সুদীপজ্যোতি দাস, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ডা. প্রসেনজিত্ ঘোষদের তত্তাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
‘স্কোচ’ কমিটির জুরি ওই পুরস্কারের বিষয় ঘোষণা করেছে। গত ১৬ জানুয়ারি আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান পদ্ধতির মাধ্যমে পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন কাছাড়ের জেলাশাসক কির্তি জল্লি।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, স্কোচ পুরস্কারটি সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে স্কোচ গ্রুপ দ্বারা প্রদত্ত সর্বোচ্চ স্বাধীন সম্মান। ‘আস্থা’ প্রকল্পটি গত বছরের জুলাই মাসে প্রতিটি জেলায় চালু হয়েছিল। প্রজেক্ট ‘আস্থা’কে লকডাউন পরবর্তী সময়ে কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানকারী এবং তঁদের পরিবারগুলিকে মানসিক-সামাজিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এনএইচএম-এর ডিপিএম রাহুল ঘোষ চালু করেছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক এবং যাত্রী দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে নিজ নিজ জেলায় ফিরে এসে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে কোভিড পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত পৃথক ছিল। কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ডে কোভিড-১৯-এর ভয়ের কবলে পড়ে কিছু মানুষের মধ্যে আত্মঘাতীর প্রবণতা গড়ে উঠেছিল। তাঁরা তাঁদের পরিবার থেকে দূরে থেকেছিলেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য জেলাশাসক কীর্তি জল্লির নির্দেশে স্বাস্থ্য দফতর এই উদ্যোগ নিয়েছিল।
এই প্রকল্পের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। সুবিধাভিত্তিক হস্তক্ষেপে শিলচর চিকিত্সা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগের চিকিত্সকদের একটি দল ওষুধাদি সহ সম্প্রদায় ভিত্তিক হস্তক্ষেপের ভিত্তিতে মনো-সামাজিক পরিষেবা প্রদানের জন্য পৃথক পৃথক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের আশাকর্মী এবং ফ্রন্ট লাইন কর্মীরা মানসিক-সামাজিক সহায়তা প্রদানের জন্য পৃথক কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানকারী পরিবারের লোকজনদের সরেজমিন পরিদর্শন করে সামগ্রিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। ফ্রন্ট লাইনের কর্মী ও সাইক্রিয়াট্রিক বিভাগের সহায়তায় এনএইচএম-এর ডিপিএম এই প্রকল্পের কাজকর্ম সম্পাদন করেছেন।

