শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

সিপিএম-কংগ্রেস বিজেপির বড় বন্ধু, অধীর গড়ে মমতার তোপ, মান্নান-সুজনের পাল্টা তোপ

রবিবার হলদিয়ায় নরেন্দ্র মোদী যেখানে শেষ করেছিলেন। মঙ্গলবার বহরমপুরে যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের আগে দিদির মুর্শিদাবাদের জনসভাগুলো মনে পড়ে? অধীররঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানাতেন নিয়ম করে। বিধানসভা ভোটের আগে আজ প্রথম সেই অধীর গড় বহরমপুরে জনসভা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই জনসভা থেকে সিপিএম-কংগ্রেসকে বিজেপির বন্ধু বলে তোপ দাগলেন তৃণমূলনেত্রী। এদিন মমতা বলেন, ‘বিজেপিকে রুখতে হলে তৃণমূলকেই ভোট দিতে হবে। কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে নষ্ট করবেন না। ওরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না। লড়বে না। আর সিপিএম-কংগ্রেস তো বিজেপির সবচেয়ে বড় বন্ধু। নইলে কেন মইনুল হাসানরা আমাদের দলে এলেন।’ প্রসঙ্গত, মইনুল হাসান ছিলেন সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ। রাজ্য কমিটিরও সদস্য ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। অনেকে বলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের জেলা সম্পাদক হওয়ার বাসনা ছিল মইনুলবাবুর। তা হতে না পেরেই প্রিয় ছাত্রের হাত ধরে কালীঘাটের দিকে পা বাড়ান তিনি। আগের দিন হলদিয়ার মাটিতে মোদী বলেছিলেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে বাম-কংগ্রেসের গোপন দোস্তি রয়েছে। ওরা দিল্লিতে একসঙ্গে বৈঠক করে। খেলায় যেমন ম্যাচ ফিক্সিং হয়, ওদের মধ্যেও তেমন ফিক্সিং রয়েছে।’ এদিন মমতা ঠিক একই ভাবে বিজেপির সঙ্গে বাম-কংগ্রেসকে এক করে দেখাতে চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘এই ভদ্রমহিলার মিথ্যাচারের কোনও সীমা নেই। যিনি বিজেপিকে বাংলায় ডেকে আনলেন, যিনি বিজেপির মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন, তিনি এসব বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন যে তিনি আরএসএসের সার্টিফিকেট নেননি?’ বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে গান সেদিন গেয়েছিলেন এদিন সেই ভাঙা ক্যাসেটই মুখ্যমন্ত্রী বাজিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে কার সঙ্গে কার পর্দার আড়ালে বোঝাপড়া আছে। দুই ফুলের এই ছদ্ম লড়াইয়ের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেস ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিই যে বাংলার ভবিষ্যত্‍ তা মানুষ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই বুঝছেন।’ লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। এই প্রথম সাংসদ ভোটে মুর্শিদাবাদে খাতা খোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। শুধু খাতা খোলা নয়, তিনটির মধ্যে দুটি আসন জিতে নেয় তৃণমূল। যদিও পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই জয়ের নেপথ্যে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একেবারে নিচু তলার সংগঠনকে গড়ে তুলেছিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা। কিন্তু সেই তিনি এখন বিজেপিতে। এবার বিধানসভায় তাই তৃণমূলের পক্ষে মুর্শিদাবাদ কতটা উর্বর হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই। কারণ নবাবের জেলায় কংগ্রেস ও বামেদেরও ভাল শক্তি রয়েছে। দ্য ওয়াল ব্যুরো

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *