বিশু / সমীপ, শিলচর (অসম): ‘অসম চুক্তি রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে অসমে নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগ করা হবে না’, গতকাল শিবসাগরে রাহুল গান্ধীর এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে নির্বাচনে এর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘আমরা বাঙালি’।
আমরা বাঙালি-র অসম প্রদেশ সচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, গতকাল রাহুল গান্ধী শিবসাগরে এসে বলেছেন অসম চুক্তি রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে অসমে নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগ করা হবে না। ‘আমরা বাঙালি’-র অসম রাজ্য কমিটি রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছে। ‘অসম চুক্তি’ শুধু অসমে নয় সারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাঙালি বিদ্বেষী করে তুলেছে। নাগরিকপঞ্জি থেকে শুরু করে ডি ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প সর্বত্রই এই কালা চুক্তির কুফল বর্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর জানা উচিত, দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকায় ১৯৭৯ সাল থেকে পাঁচ বছরের অসম আন্দোলনের কোনও প্রভাব পড়েনি। সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)-র ডাকে ১৯৮০ সালের লোকসভা নির্বাচন বয়কটের কোনও প্রভাব শিলচর, করিমগঞ্জে পড়েনি। প্রয়াত সন্তোষমোহন দেব ৮০ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিলচর থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। সুতরাং অসম আন্দোলন সমগ্র অসমবাসীর আন্দোলন ছিল না বলে সাধন পুরকায়স্থ স্পষ্ট জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায়ও নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে বিদেশি খেদাও আন্দোলনের নামে বাঙালি খেদাও আন্দোলনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। নেলি, গহপুরে বাঙালি গণহত্যা হয়েছে। ডা. অঞ্জন চক্রবর্তী সহ কত বাঙালির প্রাণ ঝরেছে। অসম আন্দোলনে নিহতদের অসম সরকার শহিদ ঘোষণা করে অর্থ সাহায্য করলেও বাঙালিরা ন্যূনতম সম্মান বা সাহায্য পাননি।
আমরা বাঙালি-র অসম প্রদেশ সচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, রাহুল গান্ধীর জানা উচিত, নাগরিকপঞ্জি নবায়িত করার কথা ‘অসম চুক্তি’তে ছিল। তাই নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে বাঙালিরা যে চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আজও নাগরিকপঞ্জির ব্যাপারটা ঝুলিয়ে রেখে বাঙালি সমাজকে উত্কণ্ঠার মধ্যে রাখা হচ্ছে। ৭০ জনের অধিক বাঙালি আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন। দেশভাগের বলি লোকদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রতি জাতীয় নেতা জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল, মহাত্মা গান্ধী সবাই দিয়েছিলেন। সেই কথাটি একটিবারও উচ্চারণ করেননি রাহুল গান্ধী। অথচ অনৈতিকভাবে নেহাত্ রাজনতিক ফায়দা তুলতে শুধু নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে গেছেন রাহুল গান্ধীরা।
জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে তত্কালীন জাতীয় নেতাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতিতেই লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে দেশভাগের বলি হতে হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশভাগের বলি অজস্র বাঙালির আজও রেল লাইনের ধারে ফুটপাথে নানা দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে! এর জবাব রাহুল গান্ধী বা ওই স্তরের নেতারা কি দিতে পারবেন? এই প্রশ্ন তুলে সাধন পুরকায়স্থ বিজেপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বলেন, বিজেপি-তো বাঙালিদের নিয়ে পুতুল খেলা খেলছে। বলেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বাঙালিদের খুন করার ঘটনা চলছে। আমরা বাঙালি-র প্রদেশ সচিব সাধন পুরকায়স্থ নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন ও বিনাশর্তে বাঙালিদের নাগরিকত্ব প্রদানের জোরালো দাবি জানিয়ে রাহুল গান্ধী সহ যে সমস্ত দল বাঙালি জাতিকে ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে রেখে ভোটের রাজনীতি করতে চাইছেন তাদের চিহ্নিত করে আগামী নির্বাচনে যোগ্য জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

