শিরোনাম
সোম. ফেব্রু ২৩, ২০২৬

কার নির্দেশে ছাত্রদেরকে গুলি করে শহীদ করা হলো তার জবাব প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে: হেফাজত আমীর

হেফাজতে ইসলামের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, মুসল্লিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিবর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। কার নির্দেশে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্রদেরকে গুলি করে শহীদ করা হলো তার জবাব প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে।

রোববার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হরতাল কর্মসূচি পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশের গুলিতে শুক্রবার সারা দেশে কমপক্ষে ৮ জন শহীদ হয়েছেন।

মোদীর পক্ষ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র হামলায় সঙ্গ দেয় শেখ হাসিনার পেটোয়া ছাত্রলীগ।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে আসা নিরীহ মুসল্লিদের লাঠিসোটা ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে হামলার সময় মুসল্লিদের দাড়ি ধরেও টানতে দেখা যায় ছাত্রলীগের কর্মীদের। একই দিন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ৪ জন শহীদ হন।

শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর বাবুনগরী বলেন, মোদীর আগমনের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ী, বি-বাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরত তৌহিদি জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে আনুমানিক ৮ জনকে শহীদ করা হয়েছে।

গুলি ও টিয়ারস্যাল নিক্ষেপ করে প্রায় চারশ’ প্রতিবাদী তৌহিদি জনতাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বাবুনগরী আরো বলেন, তৌহিদি জনতার এ আন্দোলন দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না। এই আন্দোলন ছিলো নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশের এমন হামলা বরদাশত করা যায় না।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোদির আগমনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তৌহিদি জনতা। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরতের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। হাটহাজারীতে আমার কলিজার টুকরা চারজন ভাইকে শহীদ করেছে পুলিশ। শহীদদের গা থেকে ঝরা এ রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না। পুলিশের গুলিতে নিহত তৌহিদি জনতার প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেয়া হবে।

বাবুনগরী বলেন, মোদির আগমনের কারণেই বাংলাদেশে রক্ত ঝরেছে।

তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে মোদিকে বাংলাদেশ ছাড়তে হবে। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মুসলমানদের খুনী মোদী থাকতে পারবে না।

বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর আরো বলেন, মোদী ইস্যুতে যদি আর একজন তৌহিদি জনতার রক্ত ঝরে বা ওলামায়ে কেরামকে হামলা মামলা ও হয়রানি করা হয় তাহলে এর প্রতিবাদে পুরো দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। প্রয়োজনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *