শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১৮, ২০২৬

শিলচর রেডক্রস সোসাইটিকে ভূ-মাফিয়া কালোবাজারিদের খপ্পর থেকে রক্ষা করার আর্জি মেম্বারস ফোরামের

বিশু / সমীপ, শিলচর (অসম): আন্তর্জাতিক ও অরাজনৈতিক সংস্থা শিলচর রেডক্রস সোসাইটিকে ভূমাফিয়া কালোবাজারিদের খপ্পর থেকে রক্ষা করার আর্জি জানিয়েছে রেডক্রস মেম্বারস ফোরাম। এছাড়া নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভোটের রাজনীতির আঙিনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরক এই অভিযোগ তুলেছেন ফোরামের মুখ্য সংযোজক শংকর দে।

সংবাদ মাধ্যমকে শংকর দে জানান, রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা পূরণ করতে অসাংবিধানিকভাবে রেডক্রসের সম্পাদক পদ আঁকড়ে ধরেছেন শিলচরে বিজেপি প্রার্থী দীপায়ন চক্রবর্তী। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনা। শিলচর রেডক্রসের ইতিহাসে বিগত দিনে এ-ধরনের ঘটনা কখনও ঘটেনি। শংকর দে বলেন, দীপায়ন চক্রবর্তী ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে নির্বাচনি আচরণ বিধি উপেক্ষা করে শিলচর রেডক্রসকে ভোটের রাজনীতির আঙিনায় ব্যবহার করছেন। ২০১৭ সালে রেডক্রসের নির্বাচনে নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান শংকর দে আরও বলেন, মিথ্যা কথাকে বারংবার বলে নির্বাচনি কৌশল অবলম্বন করছেন স্বঘোষিত সম্পাদক দীপায়ন চক্রবর্তী। শিলচর রেডক্রসকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করছেন তিনি।

শংকর বলেন, রেডক্রসের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও রহস্যজনক কারণে গত পাঁচ বছর থেকে রেডক্রসের বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়নি। অথচ, প্রত্যেক বছর চারবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের নিয়ম। কিন্তু দীপায়ন চক্রবর্তী নানা টালবাহানায় রেডক্রসের সভা এবং এজিএম এড়িয়ে চলেছেন। সভার দিন ধার্য করার পর তিনি ডিব্রুগড় গুয়াহাটি ও অন্যান্য স্থানে রয়েছেন বলে নিজের ঠিকাদারি ব্যবসায়িক ব্যস্ততা দেখিয়ে সভা এড়িয়ে চলেন। শাসকদলের দাপট খাটিয়ে ভোটের স্বার্থে রেডক্রসকে ব্যবহার করছেন দীপায়ন। বলেন, যে কয়েকটি সভা হয়েছে সেই সভাগুলোতে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাই রেডক্রসের ইতিহাসে দীপায়নকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ সম্পাদক আখ্যায়িত করে তাঁর অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য দু-বছর পর ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তিনি, বলেন শংকর দে।

তিনি বলেন, রেডক্রসকে কুক্ষিগত করে রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে নতুন সদস্যভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন দীপায়ন চক্রবর্তী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, রেডক্রসের জমি দখল করে কম টাকায় লিজ নিয়ে মদের দোকান সহ হোটেলের ব্যবসা করা হচ্ছে। রেডক্রসের এএনএম তহবিল থেকে অন্তত তিরিশ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বলেন, অতীতে রেডক্রসের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কখনও ব্যক্তিস্বার্থে এই সোসাইটিকে ব্যবহার করেননি।

শংকর দে বিস্ময় ব্যক্ত করে বলেন, সংগ ইতিহাসে ব্যর্থতম সম্পাদক দীপায়ন চক্রবর্তীকে নিয়ে নির্বাচনি জনসভায় প্রচারে সোসাইটির কর্মসূচি নিয়ে দীপায়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাংসদ রাজদীপ রায়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তবে যোগী আদিত্যনাথ শিলচর রেডক্রস সম্পর্কে কিছু জানার কথা নয়, তাঁকে যেভাবে বলা হয়েছে তা-ই বলেছেন তিনি। আদিত্যনাথকে মিথ্যা বুঝিয়ে তোতাপাখির মতো শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্য পেশ করাতে বাধ্য করা হয়েছে। শংকর বলেন, এতে তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা প্রশ্ন চিহ্ণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গল্পের গরু গাছে চড়ার মতো রন্ধন গ্যাসের কালোবাজারি ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত দীপায়ন চক্রবর্তীকে বিজেপির মতো সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল কী করে শিলচরে প্রার্থী করেছে তা নিয়ে সংশয় উস্কে দিয়েছেন শংকর দে।

ফোরামের মুখ্য সংযোজক শংকর দে বলেন, ভোটের স্বার্থে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে বিগতদিনে রেডক্রসকে কেউ ব্যবহার করেননি। কিন্তু দীপায়ন চক্রবর্তী ভোটের স্বার্থে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অরাজনৈতিক সংস্থা ঐতিহ্যবাহী শিলচর রেডক্রসকে ব্যবহার করছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিঙের রাজ্যসভার সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত এক কোটি এবং অন্যান্য অনুদানের আরও পঞ্চাশ লক্ষ মিলে মোট দেড় কোটি অনুদানের টাকায় পর পর তিনবার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু দেড় কোটি টাকায় নির্মিত ভবন পাঁচ বছরেও ব্যবহার করা হচ্ছে না। কার্যনির্বাহী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীপায়ন চক্রবর্তীর একগুঁয়েমি দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে রোগীরা চিকিত্‍সায় এসে ক্যাবিন পাচ্ছেন না।

শিলচর রেডক্রসের আজীবন সদস্য সহযোগী সদস্যরা হয়তো বিষয়টি জানেন না। শংকর দের বিস্ফোরক বক্তব্য, রেডক্রসে অবৈধ ব্যবসায়ী সিন্ডিক্যাটের কুদৃষ্টি পড়েছে। রেডক্রসের জমির ওপর দীপায়ন চক্রবর্তী সহ আরও কয়েকজনের দৃষ্টি পড়েছে। রেডক্রসের জমির ওপর কম টাকায় হোটেল, পানশালা (মদের বার) বানিয়ে সিন্ডিক্যাটের ব্যবসা করছেন দীপায়ন চক্রবর্তীরা। এছাড়া গ্যাস কেলেংকারি প্রতারণা মামলায় জড়িত বলে অভিযুক্ত দীপায়ন চক্রবর্তীকে কীভাবে কেন প্রার্থী করেছে বিজেপি তা তাঁর বোধগম্য হয়নি বলে খেদ ব্যক্ত করেছেন শংকর দে। এ-ধরনের দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে ইভিএম-এ উপযুক্ত জবাব দিতে শিলচরের সচেতন ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান শংকর।

তিনি বলেন, ব্যর্থ সম্পাদক দীপায়ন চক্রবর্তীর অনৈতিক গতিবিধির জন্য অনেকাংশে চাপের মুখে পড়ে বহু বিশিষ্ট চিকিত্‍সক রেডক্রস থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এতে রেডক্রস আর্থিক দূরবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীপায়ন চক্রবর্তীর ব্যর্থতার দরুন রেডক্রস সোসাইটির প্রশাসনিক অবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তাই শিলচর রেডক্রসকে ভূ-মাফিয়া কালোবাজারিদের খপ্পর থেকে রক্ষা করার আর্জি জানিয়েছেন রেডক্রস সোসাইটি ফোরামের মুখ্য সংযোজক।

যাবতীয় অপকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রেডক্রসের পদ থেকে দীপায়ন চক্রবর্তী সহ অনৈতিক কমিটিকে বাতিল করে তাঁদের বহিষ্কারের জন্য জেলাশাসক তথা রেডক্রসের চেয়াম্যান কীর্তি জল্লির কাছে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রেডক্রস মেম্বারস ফোরামের মুখ্য সংযোজক শংকর দে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *