শিরোনাম
মঙ্গল. মার্চ ১০, ২০২৬

বিজেপির ক্যাডারদের পুলিশের পোশাক পরানো হচ্ছে, ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বলবে: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির ক্যাডারদের পুলিশের পোশাক পরানো হচ্ছে। ওরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভয় দেখিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বলবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি আজ (সোমবার) নন্দীগ্রামের ঠাকুরচকে দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

নির্বাচনে বিজেপির তৎপরতা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমার কাছে খবর আছে বাজার থেকে পুলিশের পোশাক কিনেছে। পুলিশের পোশাক কিনে এনে কয়েকটা জায়গায় গেস্ট হাউসে রেখে দিয়েছে বিজেপির ক্যাডারদের পরিয়ে। তাদের বিহার পুলিশ সাজাবে, উত্তর প্রদেশ পুলিশ সাজাবে, দিল্লির পুলিশ সাজাবে। গিয়ে গ্রামে গ্রামে ভয় দেখাবে, আর বলবে বিজেপিকে ভোট দাও। মনে রাখবেন ওগুলো পুলিশ নয়, ওগুলো হচ্ছে ফুলিশ। ভাঁওতা, ভাঁওতা। এ জিনিস আমি কেন করব? আজকে কতগুলো ছেলেকে শিখিয়ে দিয়েছে, হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে দাও নন্দীগ্রামে। কতগুলো ছেলেকে শিখিয়ে দিয়েছে, যাও হিন্দু মন্দিরে গিয়ে একটু মাংস ফেলে এসো, যাতে দাঙ্গা বাধানো যায়! কেন করবে? আমরা বুঝি হিন্দু ঘরের লোক নই? তুমি হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করতে এসেছো? নন্দীগ্রামে যখন আন্দোলন হয়েছিল, তখন কেউ শাঁখ বাজিয়েছে, কেউ উলু দিয়েছে, কেউ আজানের ধ্বনি দিয়েছে, এক সাথে কাজ করেছে। তখন তো কই ওই ভূমি আন্দোলনে এই ভেদাভেদ, এই ভাগাভাগি ছিল না। তাহলে আজকে কেন, দাঙ্গা করতে হবে? ভাগাভাগি করতে হবে?”

মমতা বলেন, “আমরাও হিন্দুধর্ম করি, আমরাও মুসলিম ধর্ম করি, আমরাও শিখ ধর্ম করি, আমরাও খ্রিস্টান ধর্ম করি। কিন্তু আমাদের একটা সিস্টেম আছে। আমরা স্লোগান দিয়ে বলি ‘হরে কৃষ্ণ হরে হরে, তৃণমূল ঘরে ঘরে। আমরা স্লোগান দিয়ে বলি, ‘হরে কৃষ্ণ হরি হরি, আসুন মানুষের কাজ করি’। আর ওই বিজেপির গুণ্ডাগুলো বলে, ‘হরে কৃষ্ণ হরি হরি, পিছন থেকে ডাকাতি করি’, ‘হরে কৃষ্ণ হরি হরি, পিছন থেকে লুট করি’! ‘হরে কৃষ্ণ হরি হরি, যত করি লুটে খাই’, এই করে বেড়াচ্ছে। আর হঠাৎ করে গেরুয়া একটা পোশাক করে কপালে তিলক লাগিয়ে সে যেন কত বড় মহাপুরুষ হয়ে গেছে। বাপরে বাপরে!”

মমতা বলেন, “ওরা বাইরে থেকে গুণ্ডা নিয়ে আসছে। বন্দুক নিয়ে আসছে। কাঁথিতে উত্তর প্রদেশের ২০ টা গুণ্ডা ধরা পড়েছে।”

বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন। ওই আসনে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মমতা মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য শুভেন্দু অধিকারী। ফলে ওই কেন্দ্রের দিকে সকলের নজর রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *