ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সেফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনটি সময়মতো না পাওয়া গেলে ‘অন্য পরিকল্পনার’ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।
সোমবার (২৯ মার্চ) হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান। তবে অন্য পরিকল্পনাটি কী, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ মাসের টিকা আমরা পাইনি। প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কেনা টিকার বিষয়ে বলেছেন। কোভ্যাক্সের টিকা পেতে মে-জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। টিকা পেতে দেরি হলে আমাদের অন্য পরিকল্পনা করতে হবে।’
এদিকে গত ২৬ মার্চ দুপুরে ভারত সরকারের দ্বিতীয় দফায় উপহার হিসেবে দেয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১২ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছিল ভারত।
অক্সেফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘কোভিশিল্ড’ নামের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনটি বাজারজাত করছে ভারতের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউট।
উপহারের বাইরে গেল ৫ নভেম্বর ‘কোভিশিল্ড’ নামের ওই টিকার ৩ কোটি ডোজ কিনতে সেরামের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। এই ৩ কোটি ডোজ দেশের নাগরিকদের বিনামূল্যে প্রয়োগ করবে সরকার। গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর এ টিকা আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।
ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ৬ মাসে ৩ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে বিশ্বজুড়ে টিকার বিপুল চাহিদায় সরবরাহ সংকটের মধ্যে গেল ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারির চালানে আসে ২০ লাখ ডোজ টিকা। মার্চে কোনও চালান এখনও আসেনি। আর উপহার হিসেবে দুই দফায় ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ পেলো ৩২ লাখ ডোজ টিকা।
ভারত থেকে টিকার প্রথম চালান আসার পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণ টিকাদান শুরু হয়। প্রায় দেড় মাসে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।
ভারত থেকে টিকার নতুন চালান আসা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা রোবেদ আমিন সম্প্রতি জানান, ফেব্রুয়ারির চালানের বাকি ৩০ লাখ ডোজ ও মার্চের চালানের ৫০ লাখ ডোজ টিকা এখনও আসেনি। এই ৮০ লাখ ডোজ টিকা কবে নাগাদ আসবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর গত এক বছরে মধ্যে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫ হাজার ১৮১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যা বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত। গত বছরের ২ জুলাইয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে এখন মোট আক্রান্ত ৬ লাখ ৮৯৫ জন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৪৯ জনে।

