মৌমিতা ভট্রাচার্য: দিল্লিতে লকডাউনের পর পরই করোনা সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রেও লকডাউনের পরই দৈনিক সংক্রমণ অনেকটাই কম। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা দিল ওড়িশাতে। দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লকডাউন জারি থাকলেও মহামারি পরিস্থিতির কিছুই পরিবর্তন হয়নি এ রাজ্যে। ওড়িশায় শুক্রবার একদিনে করোনা টেস্টে ১২,৫২৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
একদিনে মৃত্যু ২৭ জনের
এ রাজ্যে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই প্রথম। দু’সপ্তাহের বেশি লকডাউনের পরও ওড়িশায় সেভাবে উন্নতি দেখা যায়নি। বরং গত ১০ দিনে নিয়মিত এ রাজ্যে ১০ হাজারের বেশি নতুন কেস সনাক্ত হচ্ছে। রাজ্যের পজিটিভিটি রিপোর্ট চারদিন ধরে ২০ শতাংশের নীচে থাকার পর তা ফের ২০ শতাংশে এসে পৌঁছেছে।
পজিটিভ কেস বাড়ছে
রাজ্যে ক্রমাগত পজিটিভ কেস বর্তমানে ৬,৬৮,৪২২-এ এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে যুক্ত রয়েছে ১২,৫২৩টি কেস। এর পাশাপাশি রাজ্যে সক্রিয় কেসের সংখ্যা ১,০৯,৪৩৮টি। রাজ্যের মধ্যে খোরদা জেলার অবস্থা ক্রমশঃ খারাপের দিকে যাচ্ছে, যেখানে করোনা ভাইরাস কেসের সংখ্যা লাফিয়ে ১৮৪২-তে পৌঁছে গিয়েছে। কটকে কেসের সংখ্যা ১০৮৪, অঙ্গুলে ৯৩০টি নতুন কেস এবং সুন্দরগড়ে ৭১৫টি করোনা কেস সনাক্ত হয়েছে। এই জেলাগুলি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসাবে উঠে আসছে।
করোনা টেস্টের বৃদ্ধি
ধারাবাহিকভাবে উচ্চ নতুন কেসগুলির জন্য গ্রামীণ এলাকায় করোনা টেস্টের বৃদ্ধি দায়ি, যেখানে পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ জনের মৃত্যু নিয়ে এ রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৩০-এ। খোরদা ও কোরাপুটে চারজন করে মৃত্যু হয়েছে।
লকডাউন ওড়িশায়
সম্প্রতি ওড়িশা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয় এবং পরে তার মেয়াদ বাড়িয়ে ১ জুন পর্যন্ত করে দেওয়া হয়। এছাড়াও লকডাউনের পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত পুরো শাটডাউন থাকবে।

