শিরোনাম
সোম. ফেব্রু ২৩, ২০২৬

তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া মুনাফার টাকায় কেনা যেত ৬৮ লাখ ডোজ টিকা

করোনার টিকা ক্রয়ে তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করার সমালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া মুনাফার টাকায় ৬৮ লাখ ডোজ টিকা কেনা যেত।

‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলা: কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে টিআইবি’র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন বলেন, টিকা কিনতে গিয়ে সরকারি ক্রয়বিধির ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। এখানে তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে ২৩১ কোটি টাকা মুনাফা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে ৬৮ লাখ ডোজ টিকা কেনা যেত।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার টিকার জন্য একটি মাত্র উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই সিদ্ধান্ত যে ঠিক হয়নি, সেটি এখন প্রমাণিত।

তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের জন্য তৃতীয় পক্ষকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে লাভবান করা হয়েছে। আর তার বোঝা বইতে হচ্ছে জনগণকে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্ত ছিল দেশীয় কোম্পানি বেক্সিমকো।

সেরাম থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে এসব টিকা আসার কথা ছিল। তবে সেরাম থেকে দুই চালানে মোট ৭০ লাখ টিকা পায় বাংলাদেশ।

গত মার্চে আকস্মিক টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে টিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সেরাম। বিকল্প উৎস না থাকায় টিকা সংকটে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ৮০ শতাংশ মানুষকে কীভাবে, কোন উৎস থেকে টিকা দেওয়া হবে, তার কোনো কৌশলগত দিকনির্দেশনা নেই। তার জন্য কোনো পথরেখা সরকার তুলে ধরেনি। কোভিড-১৯-এর শুরুতে ব্যবস্থাপনায় যে ত্রুটি ছিল, তা এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে শত গুণ বেশি তৎপর তথ্য প্রকাশ নিয়ন্ত্রণে। করোনাকালে স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি গণমাধ্যমে বেশি করে প্রকাশ পাওয়া শুরু হয়। এ সময় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সচেষ্ট হতে দেখা গেছে। অনেক গণমাধ্যমকর্মীও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *