শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ১৫, ২০২৬

ভ্যাকসিনেশনে অসম সরকারের আসাম রাজ্য সরকারের দৈনিক লক্ষ্য অতিক্রম, একদিনে টিকা প্রদান ৩.৩৯ লক্ষ নাগরিককে

গুয়াহাটি: কোভিড অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মেগা ভ্যাকসিন কর্মসূচি পালন করছে রাজ্য সরকার। গোটা দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে বর্ধিত টিকাকরণ অভিযানের অধীনে রাজ্যে গতকাল সোমবার একদিনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকারি প্রশাসনযন্ত্র। নির্ধারিত লক্ষ্য তিন লক্ষ অতিক্রম করে বর্ধিত টিকাকরণ অভিযানের প্রথম দিনে রাজ্যে মোট ৩,৩৯,৫৩৬ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

কো-উইন অ্যাপে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ৮.০০টা পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিশাল সংখ্যার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক কামরূপ মহানগর জেলায় সন্ধে ৭-টা পর্যন্ত ২৪,০৫৩ জনে প্রদান করা হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন। গুয়াহাটিতে মোট ২৪০টি সেন্টারে টিকা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ ক্রমাগতভাবে কমে আসছে দেখে গতকাল ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত টিকাকরণ অভিযান বা মেগা ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের সব রাজ্যে ১৮-ঊর্ধ্ব যুবক-যুবতী তথা ব্যক্তিবর্গকে বিনামূল্যে ব্যাপক হারে ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরই অঙ্গস্বরূপ অসমে গতকাল সোমবার থেকে প্রতিদিন তিন লক্ষ নাগরিককে ভ্যাকসিন প্রদান করার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছিলেন ‘বর্ধিত টিকাকরণ অভিযান’।

‘বর্ধিত টিকাকরণ অভিযান’-এর অধীনে যাতে এই লক্ষ্য পূরণ করা যায়, তার জন্য ব্যাপক তত্‍পর হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা। তিনি প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিঙের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া প্রত্যেক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সাংসদদের এই টিকাকরণ অভিযান পর্যবেক্ষণ করতেও আহ্বান জনিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে প্রতিদিন তিন লক্ষ নাগরিককে ভ্যাকসিন প্রদান করতে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল স্বাস্থ্য দফতর।

জানা গেছে, এই অভিযান সফল করতে রাজ্যের শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে মোট ২,১৮৪টি ভ্যাকসিন কেন্দ্র গড়ে রাজ্যবাসীকে টিকা গ্রহণ করতে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন সেন্টারগুলির ২,১৬২টি সরকারি এবং বাকি ২২টি বেসরকারি। সেন্টারগুলিতে যাতে সুষ্ঠু ও ব্যাপক হারে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়, সেজন্য প্রত্যেক কেন্দ্রে নিয়োগ করা হয়েছে একটি করে বিশেষ দল। এই দলে আছেন দুজন নার্স, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই ব্যক্তি, দুজন কম্পিউটার অপারেটর, একজন নথিপত্র পরীক্ষাকারী এবং দুজন পুলিশ কর্মী। প্রত্যেকটি ভ্যাকসিন সেন্টারে সুবিধাভোগীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জলের ব্যবস্থা ইত্যাদি রয়েছে। শহরাঞ্চলগুলিতে প্রতিদিন সকাল ৮-টা থেকে রাত ৮-টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলগুলিতে সকাল ৮-টা থেকে বিকেল ৪-টা পর্যন্ত প্রদান করা হয় ভ্যাকসিন।

এদিকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য অভিযান, অসমের তথ্য, গতকাল সন্ধ্যা ৭-টা পর্যন্ত বাকসা জেলায় ৭,৪৭২ জন, বরপেটায় ১২,০৪১ জন, বিশ্বনাথে ৯,০১৭ জন, বঙাইগাঁওয়ে ৭,৯৬৭ জন, কাছাড়ে ২০,৯১০ জন, চড়াইদেওয়ে ৩,৩৫৯ জন, চিরাঙে ৩,২৭২ জন, দরঙে ৯,৪০৯ জন, ধেমাজিতে ৭,৭০২ জন, ধুবড়িতে ১২,২৬৪ জন, ডিব্রুগড়ে ২২,২৮৭ জন, ডিমা হাসাওয়ে ২,৭৪৫ জন, গোয়ালপাড়ায় ৮,৩৯১ জন, গোলাঘাটে ১১,৩৩০ জন, হাইলাকান্দিতে ৭,৩০৬ জন, হোজাইয়ে ৯,২৪৬ জন, যোরহাটে ১০,৩৯০ জন, কামরূপ (গ্রামীণ)-এ ১৩,১২৬ জন, কারবি আংলঙে ২,৬৮১ জন, পশ্চিম কারবি আংলঙে ১,০৫৯ জন, করিমগঞ্জে ৬,৩৩৯ জন, কোকরাঝাড়ে ৫,৭৬৩ জন, লখিমপুরে ১০,৯৪৪ জন, মাজুলিতে ২,৬৪৯ জন, মরিগাঁওয়ে ৮,৩৭৪ জন, নগাঁওয়ে ১৬,১৩২ জন, নলবাড়িতে ৮,৭০৭ জন, শিবসাগরে ৮,১৬৫ জন, শোণিতপুরে ১৮,১৯৭ জন, দক্ষিণ শালমারা মানকাচরে ৩,০১৯ জন, তিনসুকিয়ায় ১৭,৩৭২ জন এবং ওদালগুড়িতে ৫,৬২৬ জনকে প্রদান করা হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন।

এদিকে, আজ নগাঁও এবং মরিগাঁওয়ে গিয়ে ভ্যাকসিন প্রদান অভিযানের খোঁজখবর নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেশব মহন্ত। প্রথম দিন নির্ধারিত লক্ষ্য অতিক্রম করা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহন্ত বলেন, ১৮-ঊর্ধ্ব সকলকে বিনামূল্যে কোভিড প্রতিষেধক প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গৃহীত সিদ্ধান্তকে বাস্তব রূপ দিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নিরীক্ষণ এবং তদারকিতে ব্যাপক ‘বর্ধিত টিকাকরণ অভিযান’ শুরু হয়েছে। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল প্রথম দিনই নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে অতিক্রম করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। কোভিড প্রতিষেধক গ্রহণ করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাপক হারে জনতা আসছেন। এটা শুভ লক্ষণ। অসমকে কোভিডমুক্ত করতে রাজ্যবাসী যে সংকল্পবদ্ধ তা বিলক্ষণ বোঝা যাচ্ছে। এই অভিযান সফল করে তুলতে সহযোগিতাকারী সকল কর্মচারী, চিকিত্‍সক, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, পুলিশকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেশব মহন্ত। পাশাপাশি এই অভিযানের অধীনে বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *