নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঠমাণ্ডু: কয়েক দফা নাটক শেষে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে অবশেষে শপথ নিলেন শের বাহাদুর দেউবা। দেশে নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণকে ঘিরে মঙ্গলবার দফায়-দফায় নাটকের সাক্ষী থাকল নেপাল। রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীর দেওয়া নিয়োগপত্রে সংবিধানের কত ধারায় প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁকে নিয়োগ করা হচ্ছে তা উল্লেখ না থাকায় শপথ নিতে বেঁকে বসেছিলেন নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবা। ভেস্তে যেতে বসেছিল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তিনি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দেউবাকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী।
সোমবার দুপুরেই নেপালের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ২৮ ঘন্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে সরিয়ে নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীকে নির্দেশ দেয়। এমনকী ভেঙে দেওয়া দেশের জাতীয় সংসদকেও অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার সময়ে শের বাহাদুর দেউবার শপথ গ্রহণের সময় নির্দিষ্ট করেন নেপালের রাষ্ট্রপতি। কিন্তু হাতে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে বেঁকে বসেন নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট।
তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, সংবিধানের কত ধারা অনুযায়ী তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়োগপত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত না উল্লেখ করা হবে এবং নিয়োগপত্র সংশোধন করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শপথ নেবেন না। এ নিয়ে ফের শুরু হয় টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত নতুন নিয়োগপত্র দেওয়া হয় দেউবাকে। সেই নিয়োগপত্রে জানানো হয়, নেপালের সংবিধানের ৭৬ ধারার ৫ উপধারা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। তার পরেই শপথ নেন দেউবা।
এ নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে পঞ্চমবার শপথ নিলেন নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট তথা দেশের অন্যতম পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ দেউবা। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মাত্র ১৯ মাস গদিতে ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার শপথ নেন। ২০০৪ সালের জুন মাসে তৃতীয়বার ও ২০১৭ সালের জুন মাসে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন। শেষ বার মাত্র ৯ মাস প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে ছিলেন তিনি।

