কলকাতা: এখন থেকেই পাখির চোখ ২০২৪। আর সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় তৃতীয় বারের জন্য বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মোদি বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে উঠছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে ২৬ জুলাই, সোমবার রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দিন কয়েক আগেই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। নিজেদের স্বার্থ ভুলে এখন একজোট হতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি । আর এবার তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিরোধীদের জোটবদ্ধ করার কাজটাই করবেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
পেগাসাস নিয়ে দেশে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের দুঁদে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীদের ফোনে স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে আড়ি পাতা হয়েছে। আর এই তালিকায় রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোরের নামও। এমনকি তালিকায় নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মসহায়কেরও। অভিষেক-কিশোরের চলাফেরা গতিবিধিতে নজর রেখেছে কোনও তৃতীয় পক্ষ, এ হেন অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক তরজার জন্ম দিয়েছে। আর পেগাসাস নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি আন্দোলন করছেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এমন এক পরিস্থিতিতে মমতার দিল্লি যাত্রা আরও তাত্পর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু তা সফল হয়নি । বরং গোটা দেশে বিজেপি আরও বেশি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। একইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেইসঙ্গে বাংলাতেও বিজেপির সাংসদ সংখ্যা বেড়ে একলাফে হয়েছিল ১৮। রাজনৈতিক মহলের মত, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মমতা এখনই বিরোধীদের জোট তৈরি করার পক্ষে । সেই সূত্রেই তিনি ইতিমধ্যেই শরদ পাওয়ারের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একাধিক বার বৈঠক করিয়েছেন প্রশান্ত কিশোরকে।
বস্তুত, তৃণমূল চাইছে, বিরোধীদের জোট হোক নির্বিঘ্ন। সেই কারণে যে রাজ্যে বিজেপি বিরোধী যে দল শক্তিশালী, সেই দলকেই সমর্থন করুক বাকি বিরোধীরা। এমনকি, সেই রাজ্যে শক্তিশালী দলটিই প্রার্থী হোক। আর কোন দল প্রার্থী না দিলে চলবে না। এছাড়াও বিজেপি বিরোধিতার সুর আরও চড়াতে হবে। মূলত এই বিষয়গুলি নিয়ে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতেই রাজধানী যাচ্ছেন মমতা। ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক আছে বটে মুখ্যমন্ত্রীর, কিন্তু আসল লক্ষ্য যে বিরোধীদের জোটবদ্ধ করা, তা স্পষ্ট।

